জাতীয় ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের দিন ভোটগ্রহণ চলাকালীন চার ধাপে ভোটের সংখ্যা সংগ্রহ ও প্রতিবেদনের নির্দেশনা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ সংক্রান্ত তথ্য ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে। চিঠিতে সকল রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, ভোটগ্রহণের দিন সকাল ১০টা, দুপুর ১২টা, দুপুর ২টা এবং ভোটগ্রহণ শেষে প্রিজাইডিং অফিসারের নিকট থেকে ভোটের সংখ্যা (শতকরা হার) সংগ্রহ করে রিপোর্ট করতে হবে।
নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিটি ভোটকেন্দ্র থেকে নির্ধারিত সময় অন্তর ভোটের পরিমাণ সহকারী রিটার্নিং অফিসারের তত্ত্বাবধানে ডাটা এন্ট্রি অপারেটরকে তার আরএমএস (RMS) ইউজারের মাধ্যমে লগইন করে কেন্দ্রীয়ভাবে এন্ট্রি করতে হবে। এ তথ্য কপোত ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। এছাড়াও নির্বাচন কমিশন এবং প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকেও এই পরিসংখ্যান পর্যবেক্ষণ করা হবে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ভোটের তথ্য সঠিক সময়ে এবং সঠিকভাবে এন্ট্রি করা বাধ্যতামূলক। প্রতিটি সময় অন্তর তথ্য সংগ্রহের সময় ব্যালটের মুড়ি গণনা সম্পন্ন করে রিপোর্টিং করতে হবে যাতে ভোটগ্রহণ শুরু থেকে তথ্য আংশিক বা ভুলভাবে না আসে।
এ নির্দেশনার মূল উদ্দেশ্য হলো ভোটগ্রহণ চলাকালীন স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা। নির্বাচনী কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রতিটি কেন্দ্র থেকে নির্ধারিত চারটি ধাপে তথ্য সংগ্রহ এবং দ্রুত এন্ট্রি করার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্বচ্ছ ও আপডেটেড ভোট পরিসংখ্যান পৌঁছে যাবে।
এ ছাড়াও, চিঠিতে রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে যাতে ভোটগ্রহণ চলাকালীন তথ্য সংকলন প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের প্রক্রিয়াগত বিলম্ব বা ত্রুটি না হয়। ভোটকেন্দ্র থেকে সংগৃহীত তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হলে এটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং জনগণের আস্থা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
নির্বাচন কমিশন আশা করছে, এ নির্দেশনার মাধ্যমে ভোটের প্রাথমিক তথ্য দ্রুত ও নির্ভুলভাবে সংগ্রহের মাধ্যমে নির্বাচন ও গণভোটের দিন সময়মতো পরিসংখ্যান প্রতিবেদন তৈরি সম্ভব হবে। এই তথ্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন প্রতিটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করতে পারবে এবং প্রয়োজনে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবে।
উল্লেখ্য, এই নির্দেশনা শুধুমাত্র তথ্য সংকলন ও প্রতিবেদনের জন্য জারি করা হয়েছে; ভোটগ্রহণের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বা ভোটারদের অংশগ্রহণের উপর কোনো প্রভাব নেই। ভোটকেন্দ্রে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও তথ্য এন্ট্রির মাধ্যমে ভোটের স্বচ্ছতা এবং নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা লক্ষ্য হিসাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।


