দেশের বাজারে সোনার দাম আবার বাড়ল, নতুন দর কার্যকর

দেশের বাজারে সোনার দাম আবার বাড়ল, নতুন দর কার্যকর

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
দেশীয় বাজারে আবারও সোনার দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সর্বশেষ মূল্য সমন্বয়ের মাধ্যমে নতুন দর নির্ধারণ করেছে, যা সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) থেকে দেশের বাজারে সোনা বিক্রি হচ্ছে নতুন দামে।

বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনা বা পিওর গোল্ডের দাম বেড়ে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সোনার মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। এ সমন্বয়ের ফলে প্রতি ভরি সোনার দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। সংশোধিত দরে দেশের স্বর্ণের বাজারে বিভিন্ন ক্যারেটের সোনার নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন ঘোষিত দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকায়। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ঘোষিত এই বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যুক্ত হবে। তবে গহনার নকশা, মান ও কারিগরি জটিলতার ওপর ভিত্তি করে মজুরির হারে তারতম্য হতে পারে। ফলে ক্রেতাদের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত দাম ঘোষিত মূল্যের চেয়ে কিছুটা বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

সোনার দামের এই নতুন বৃদ্ধি চলতি বছরে ধারাবাহিক সমন্বয়ের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ২৮ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৮ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ১০ বার দাম কমানো হয়েছে। এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারের ওঠানামার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের বাজারেও সোনার দামে ঘন ঘন পরিবর্তন আসছে।

এর আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালে সোনার বাজারে আরও বেশি অস্থিরতা লক্ষ্য করা যায়। সে বছর মোট ৯৩ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৬৪ বার দাম বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার মূল্য, ডলারের বিনিময় হার, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার সরবরাহ পরিস্থিতি—এই সবকিছু মিলিয়েই দামের এ ধরনের ঘন ঘন সমন্বয় ঘটছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, সোনার দামের ঊর্ধ্বগতি সাধারণত গহনার বাজারে ক্রেতাদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে বিয়ে ও উৎসব মৌসুমে গহনা কেনার পরিকল্পনা করা সাধারণ মানুষের জন্য দাম বৃদ্ধির বিষয়টি ব্যয়ের চাপ বাড়াতে পারে। অন্যদিকে, বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে সোনার প্রতি আগ্রহ থাকা একটি শ্রেণির ক্রেতা দামের ওঠানামা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন।

বাজুসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতেও স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজন হলে সোনার দামে সমন্বয় আনা হবে। এ ক্ষেত্রে তেজাবি সোনার আমদানি মূল্য, মুদ্রাবাজারের অবস্থা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হিসেবে থাকবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ