নির্বাচন উপলক্ষে চার দিনের সাধারণ ছুটি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা পাঁচ দিন বন্ধ

নির্বাচন উপলক্ষে চার দিনের সাধারণ ছুটি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা পাঁচ দিন বন্ধ

বাংলাদেশ ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে আজ বুধবার থেকে সারা দেশে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে টানা চার দিনের সাধারণ ছুটি শুরু হয়েছে। এই ছুটি চলবে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। একই সঙ্গে নির্বাচন ও ধর্মীয় উৎসবের ছুটি মিলিয়ে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কার্যকর হয়েছে টানা পাঁচ দিনের ছুটি, যা চলবে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ এবং ভোটগ্রহণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাহী আদেশে দেশব্যাপী সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। এর সঙ্গে ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি সাপ্তাহিক ছুটি (শুক্রবার ও শনিবার) যুক্ত হওয়ায় সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরে মোট চার দিনের ছুটি কার্যকর হয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে এই ছুটি আরও এক দিন বাড়ানো হয়েছে। নির্বাচন-সংক্রান্ত সাধারণ ছুটি এবং সাপ্তাহিক ছুটির পাশাপাশি আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি শ্রী শ্রী শিবরাত্রি ব্রত উপলক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত ছুটি থাকায় মোট পাঁচ দিনের ছুটি কার্যকর হচ্ছে। ফলে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।

সরকারি সূত্র জানায়, সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের মূল ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। এই দিন দেশের সব নির্বাচনী এলাকায় ভোটগ্রহণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। নির্বাচনকে ঘিরে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

এর আগে নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে গত ২৫ জানুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপনে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে জানানো হয়, ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্বাহী আদেশে সাধারণ ছুটি বলবৎ থাকবে। একই সঙ্গে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও কর্মচারীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করতে ১০ ফেব্রুয়ারি বিশেষ ছুটি বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

শিল্পাঞ্চল সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিশেষ ছুটির ফলে গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানার শ্রমিকরা ভোটের আগের দিন নিজ নিজ এলাকায় যাওয়ার সুযোগ পাবেন। এতে ভোটগ্রহণের দিন শ্রমিকদের উপস্থিতি এবং অংশগ্রহণ বাড়বে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।

এদিকে, নির্বাচন উপলক্ষ্যে ঢাকাসহ সারা দেশের দোকানপাট, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও শপিং মল বন্ধ রাখা হয়েছে। দোকান মালিক সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ বুধবার এবং আগামীকাল বৃহস্পতিবার দেশের সব দোকানপাট ও বিপণিবিতান বন্ধ থাকবে। এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সরকারি ছুটির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করা হয়েছে।

দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. নাজমুল হাসান মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুবিধার্থে সরকারি সিদ্ধান্তের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি ঢাকাসহ সারা দেশের দোকানপাট, বিপণিবিতান ও শপিং মল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনকালীন সময়ে দোকানপাট বন্ধ থাকলেও জরুরি সেবা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। একই সঙ্গে ছুটি শেষে ব্যবসা-বাণিজ্য স্বাভাবিকভাবে চালু করার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, সাধারণ ছুটি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বন্ধ এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের সাময়িক বিরতির মাধ্যমে ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর পাশাপাশি নির্বাচন পরিচালনার পরিবেশ আরও অনুকূল হবে। নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে ঘোষিত এই ছুটির ফলে প্রশাসনিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সাময়িক স্থবিরতা এলেও ভোটগ্রহণ শেষে স্বাভাবিক কার্যক্রম দ্রুতই শুরু হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ