শীর্ষ সংবাদ ডেস্ক
উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সারাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। সোমবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে একযোগে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়, যা বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলবে। ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই ভোর থেকে গ্রাম ও শহরের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ সময় পর ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাওয়ায় ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও আগ্রহ দেখা গেছে।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ভোটকেন্দ্রগুলোতে সকাল থেকেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটারের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। অনেক ভোটার পরিবার-পরিজনসহ কেন্দ্রে আসেন। বিশেষ করে প্রথমবার ভোট দিতে আসা তরুণ ভোটারদের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও আগ্রহ লক্ষণীয়। পাশাপাশি এমন ভোটারদের উপস্থিতিও দেখা গেছে, যারা দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় পর পুনরায় ভোটকেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন।
রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ একাধিক কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভোটকেন্দ্রের ভেতর ও বাইরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি বুথে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করা হচ্ছে। প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ চলছে। জামায়াতে ইসলামীর এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত থাকায় সেখানে ভোটগ্রহণ হচ্ছে না। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচন উপলক্ষে সারাদেশে প্রায় ৯ লাখ ৫৮ হাজার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার সেনাসদস্য, ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ পুলিশ সদস্য, ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ আনসার ও ভিডিপি সদস্য, ৩৭ হাজার ৪৫৩ বিজিবি সদস্য এবং ৯ হাজার ৩৪৯ র্যাব সদস্য। এ ছাড়া অন্যান্য সহায়ক বাহিনীর সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাচনের নিরাপত্তা জোরদারে এবার প্রথমবারের মতো ইউএভি (ড্রোন) এবং বডি ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে।
সারাদেশে মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব কেন্দ্রে মোট ভোটকক্ষের সংখ্যা ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি। এবারের নির্বাচনে অংশ নিয়েছে ৫০টি রাজনৈতিক দল। মোট প্রার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ২৮ জন, যার মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৮৩ জন।
নির্বাচন কমিশনের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন। ভোটার সংখ্যার দিক থেকে সর্বনিম্ন ঝালকাঠি-১ আসনে ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩১ জন এবং সর্বোচ্চ গাজীপুর-২ আসনে ৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন ভোটার রয়েছেন।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরাও সক্রিয় রয়েছেন। ৮১টি দেশি সংস্থার ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২২৩ জন পর্যবেক্ষকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছেন।
এদিকে পোস্টাল ভোট ব্যবস্থায় মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে প্রবাসী ভোটার ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৪৬ জন এবং দেশের অভ্যন্তরে ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৩৮ জন। ইতোমধ্যে ৫ লাখ ৩১ হাজার ২১৪ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট প্রদান করেছেন।
নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ভোটগ্রহণের দিন রাত ১২টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা ট্যাক্সি ক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।


