বাংলাদেশ ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে বুধবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সকালেই বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং কোথাও বড় ধরনের অনিয়ম বা বিঘ্নের খবর পাওয়া যায়নি।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ সকালে গণমাধ্যমকে জানান, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ভোটগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর এক প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে। ফলে এ আসন বাদে ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন। মোট ৩০০টি আসনের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোটার রয়েছে গাজীপুর-২ আসনে, যেখানে ভোটার সংখ্যা ৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন। অন্যদিকে সর্বনিম্ন ভোটার রয়েছে ঝালকাঠি-১ আসনে, যেখানে ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩১ জন।
সারা দেশে মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে। এসব কেন্দ্রে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি ভোটকক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে প্রায় ৮ লাখ নির্বাচনী কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। এদের মধ্যে ৬৯ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা, ৫৯৮ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, ৪২ হাজার ৭৭৯ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ৪ লাখ ৯৫ হাজার ৯৬৪ জন পোলিং অফিসার রয়েছেন। পাশাপাশি পোস্টাল ভোটের দায়িত্বে রয়েছেন প্রায় ১৫ হাজার কর্মকর্তা।
নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৫০টি। মোট প্রার্থী ২ হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। নারী প্রার্থী রয়েছেন ৮৩ জন, যার মধ্যে ৬৩ জন দলীয় এবং ২০ জন স্বতন্ত্র। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিএনপি সর্বোচ্চ ২৯১ জন প্রার্থী দিয়েছে। আসনভিত্তিক হিসেবে ঢাকা-১২ আসনে সর্বোচ্চ ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, আর পিরোজপুর-১ আসনে সর্বনিম্ন ২ জন প্রার্থী রয়েছেন।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মোট ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর ১ লাখ ৩ হাজার সদস্য, পুলিশের ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ জন, বিজিবির ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন, র্যাবের ৯ হাজার ৩৪৯ জন, কোস্টগার্ডের ৩ হাজার ৫৮৫ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া নির্দিষ্ট এলাকায় নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। সহায়ক সেবায় ফায়ার সার্ভিসের ১৩ হাজার ৩৯০ জন সদস্য প্রস্তুত আছেন।
নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ইউএভি (আনম্যানড এরিয়াল ভেহিকল), ড্রোন এবং বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে বলে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে। প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ভোটগ্রহণকালীন আইন প্রয়োগের জন্য ২ হাজার ৯৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৬৫৭ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট পাঁচ দিন দায়িত্ব পালন করবেন, যাতে নির্বাচন-সংক্রান্ত অপরাধের তাৎক্ষণিক বিচার সম্পন্ন করা যায়। আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করতে দেশের বিভিন্ন উপজেলা ও থানায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত রয়েছেন।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ৮১টি দেশীয় নিবন্ধিত সংস্থার ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে ৭ হাজার ৯৯৭ জন কেন্দ্রীয়ভাবে এবং ৪৭ হাজার ৪৫৭ জন স্থানীয়ভাবে কাজ করছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ এবং সংবাদ সংগ্রহে অংশ নিচ্ছেন।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটগ্রহণ শেষে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী ফলাফল ঘোষণা করা হবে। সার্বিকভাবে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।


