ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ, ফলাফলের জন্য অপেক্ষা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ, ফলাফলের জন্য অপেক্ষা

রাজনীতি ডেস্ক

সারা দেশে ছোটখাটো সহিংসতার মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত মোট ৯ ঘণ্টা ৩০ মিনিট ধরে ভোটগ্রহণ চলে। নির্বাচনের দিন দেশের ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্র ও ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি ভোটকক্ষে ভোটাররা অংশ নেন।

ভোটগ্রহণের শুরুতে উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়। সকাল থেকে কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে এবং দুপুরের পর বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। এবারের নির্বাচনে বিশেষভাবে তরুণ ভোটার ও নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য ছিল। নির্বাচনের দুপুর ২টা পর্যন্ত ভোট প্রদানকারী ভোটারের হার ছিল ৪৭.৯১ শতাংশ।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য, ১ লাখের বেশি সেনাবাহিনী এবং আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। এছাড়া বিজিবি, কোস্টগার্ড, র‌্যাব, বিএনসিসি ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা নির্বাচনী দায়িত্বে ছিলেন। নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করেন ২ হাজার ৯৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৬৫৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। তারা ভোট গ্রহণের আগে দুই দিন, ভোটের দিন ও ভোটের পরের দুই দিন মোট পাঁচ দিন দায়িত্ব পালন করেন।

এবারের নির্বাচনে মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করেছে। ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এর মধ্যে ১ হাজার ৭৫৫ জন দলের প্রার্থী এবং ২৭৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৮৩ জন (দলীয় ৬৩ জন, স্বতন্ত্র ২০ জন)। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সর্বাধিক প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি, ২৯১ জন। নির্বাচনে নিবন্ধিত ১০টি রাজনৈতিক দল কোনো প্রার্থী দেয়নি।

প্রবাসীদের জন্যও ভোটের আয়োজন করা হয়। গণভোট ও সংসদ নির্বাচনে দুপুর পর্যন্ত ১১ লাখ ৪৩ হাজার ৮৪৫টি পোস্টাল ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছেছে। বিভিন্ন দেশে ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২টি ব্যালট পৌঁছেছে। প্রবাসীরা ৫ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৮টি ব্যালট সংগ্রহ করেছেন, এর মধ্যে ৫ লাখ ৪৩ হাজার ৭৫১ জন ভোট প্রদান করেছেন। ৫ লাখ ৩৭ হাজার ৫৫৪ জন ভোটার তাদের ভোট সংশ্লিষ্ট দেশের পোস্ট অফিস বা ডাকবাক্সে জমা দিয়েছেন। ৪ লাখ ৯৮ হাজার ২৬৬টি ব্যালট বাংলাদেশে পৌঁছেছে এবং ৪ লাখ ৯৫ হাজার ৫৫১টি রিটার্নিং কর্মকর্তাদের হাতে পৌঁছেছে।

নির্বাচনের পর্যবেক্ষণের জন্য ৮১টি দেশি সংস্থা থেকে ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে ৭ হাজার ৯৯৭ জন কেন্দ্রীয়ভাবে এবং ৪৭ হাজার ৪৫৭ জন স্থানীয়ভাবে সংসদীয় আসনভিত্তিক পর্যবেক্ষণ করেন। এছাড়া ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক বাংলাদেশে এসেছেন। এদের মধ্যে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণে বিভিন্ন দেশের নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৬০ জন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা থেকে প্রায় ৩৩০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এবং ৪৫টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ১৫০ জন বিদেশি সাংবাদিক নির্বাচনের কর্মসূচি অনুসরণ করেন।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, ২৯৯টি আসনে সংক্ষিপ্ত বিচার সম্পন্ন ও নির্বাচন-সংক্রান্ত অপরাধ আমলে নেওয়ার জন্য জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা দায়িত্বে ছিলেন। তফসিল ঘোষণার পর থেকে আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করতে প্রতি উপজেলা ও নির্বাচনী থানায় ন্যূনতম দুই জন করে মোট ১ হাজার ৪৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়।

নির্বাচনকালীন এসব ব্যবস্থা এবং উচ্চ পর্যায়ের পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সুষ্ঠু ও নিরাপদ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এখন ভোটের ফলাফলের দিকে নজর রাখা হচ্ছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ