জাতীয় ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও একযোগে অনুষ্ঠিত গণভোটের ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর দেশের বিভিন্ন নির্বাচনী কেন্দ্রে ভোট গণনা কার্যক্রম ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। এই নির্বাচনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট একই ব্যালট বাক্সে রাখার পদ্ধতি অনুসরণ করা হলেও, রঙের ভিত্তিতে ব্যালট আলাদা করে গণনা করা হচ্ছে। সংসদ নির্বাচনের ব্যালট সাদা-কালো রঙের এবং গণভোটের ব্যালট গোলাপি রঙের।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, প্রথম ধাপে ব্যালটের রঙ অনুযায়ী পৃথকীকরণ সম্পন্ন করা হবে। এরপর প্রতিটি নির্বাচনের ব্যালট আলাদাভাবে গণনা করা হবে। এতে করে ভোট গণনায় কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা ত্রুটি এড়ানো সম্ভব হবে।
ভোটগ্রহণে দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রে কিছু ছোটখাটো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও তা মারাত্মক আকার ধারণ করেনি। নির্বাচনী প্রক্রিয়া বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ৯ ঘণ্টা ধরে চলেছে। দেশের ২৯৯টি আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট হারের তথ্য অনুযায়ী, দেশব্যাপী দুপুর ২টা পর্যন্ত ৩৬,০৩১টি কেন্দ্রে মোট ভোটগ্রহণের হার ছিল ৪৭.৯১ শতাংশ। এর আগের সময়ে, দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩২,৭৮৯টি কেন্দ্রে ভোট পড়ার হার ছিল ৩২.৮৮ শতাংশ। নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নির্বাচন কমিশন ভোটের পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। সচিব জানিয়েছেন, দেশের কোনো প্রান্তে ভোটগ্রহণ স্থগিত করার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। এই কারণে সারা দেশে কোনো ভোটকেন্দ্রে ভোট স্থগিত হয়নি।
সিনিয়র সচিব আরও জানান, ভোট গ্রহণের পর ব্যালটের নিরাপদ পরিবহন এবং রঙভিত্তিক পৃথকীকরণের ব্যবস্থা ইতোমধ্যেই নেওয়া হয়েছে। এ পদক্ষেপের ফলে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও সঠিক ফলাফল নিরূপণে সহায়তা করবে।
ব্যালট পৃথকীকরণের পর নির্বাচনী কেন্দ্রগুলোতে গণনা শুরু হবে। কমিশন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিটি কেন্দ্রের ভোট ফলাফল কেন্দ্রীভূতভাবে সংগ্রহ করা হবে এবং পরবর্তী ধাপে জাতীয় ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভোটের সময়কাল ও ব্যবস্থাপনায় কোনো বড় ধরনের ব্যাঘাত না হওয়ায় নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় থাকবে। এছাড়া রঙভিত্তিক পৃথকীকরণের মাধ্যমে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফল সঠিকভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।
সারা দেশে নির্বাচনের এই ধারা চলমান থাকায় ভোটগ্রহণ ও গণনার পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন বলেছে, ভোট গ্রহণ এবং গণনার প্রতিটি ধাপে পর্যবেক্ষণ ও নিরাপত্তার পূর্ণব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
এভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রথম পর্যায়ের কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য রাখার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।


