রাজনীতি ডেস্ক
দীর্ঘদিন পর ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান এবং ঢাকা-১৭ আসনে দলীয় প্রতীক ধানের শীষের প্রার্থী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে নয়টার পর রাজধানীর গুলশান মডেল হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র থেকে ভোট প্রদান শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং নির্বাচন ও ভোটার উপস্থিতি নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।
ভোট প্রদান শেষে প্রতিক্রিয়ায় তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দেশের মানুষ একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের অপেক্ষায় ছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আজকের নির্বাচন সেই প্রত্যাশা পূরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তিনি মনে করেন, জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারলে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা আরও সুসংহত হবে এবং যেকোনো অনিয়ম বা ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।
নির্বাচনের সামগ্রিক পরিবেশ সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারম্যান জানান, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগের রাতে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তথ্য তিনি পেয়েছেন। তবে তাঁর দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। এ কারণে তিনি পরিস্থিতিকে আপাতত আশাব্যঞ্জক হিসেবে দেখছেন বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি ভোটারদের শান্তিপূর্ণভাবে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত থেকে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, ভোটগ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে এবং কেন্দ্রের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে সহায়তা করতে হবে। তাঁর মতে, ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি ও অংশগ্রহণের মাধ্যমেই একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব।
নির্বাচনের সম্ভাব্য ফলাফল সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, তিনি এবং তাঁর দল নির্বাচনে বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। তিনি দাবি করেন, জনগণের সমর্থন বিএনপির পক্ষেই রয়েছে এবং ভোটের ফলাফলে সেটির প্রতিফলন ঘটবে বলে তিনি মনে করেন।
সরকার গঠনের সুযোগ পেলে অগ্রাধিকার কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। তাঁর মতে, দেশের সাধারণ মানুষ যাতে নিরাপদ ও নির্ভয়ে জীবনযাপন করতে পারেন, সেটিই হবে সম্ভাব্য সরকারের প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয় এবং এই বিষয়গুলোকে সামনে রেখেই নীতিনির্ধারণ করা হবে।
নারীর অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়নের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ নারী এবং তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন অর্জন সম্ভব নয়। দলের নির্বাচনী ইশতেহারের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, নারীর যথাযথ মূল্যায়ন ও ক্ষমতায়নের কার্যক্রম অগ্রাধিকারভিত্তিতে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
ভোটের পরিবেশ ও সুষ্ঠুতা নিয়ে তাৎক্ষণিক মূল্যায়ন দিতে রাজি হননি তারেক রহমান। তিনি বলেন, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া চলমান থাকায় এ মুহূর্তে চূড়ান্ত মন্তব্য করা সমীচীন নয়। আরও কিছু সময় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর এ বিষয়ে মতামত দেওয়া যেতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ভোটগ্রহণ উপলক্ষে দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, একটি অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশ একটি স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাবে—এমন প্রত্যাশা তাঁর রয়েছে। তিনি সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ এবং নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান।


