ভোটগ্রহণের দিনে পুলিশ সদর দপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ পরিদর্শন করলেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস

ভোটগ্রহণের দিনে পুলিশ সদর দপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ পরিদর্শন করলেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস

জাতীয় ডেস্ক

দেশব্যাপী চলমান ভোটগ্রহণের সার্বিক পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আজ রাজধানীর পুলিশ সদর দপ্তরে স্থাপিত কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভোটদান কার্যক্রম, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার সর্বশেষ চিত্র পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শনকালে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। তারা নিয়ন্ত্রণ কক্ষে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ভোটগ্রহণের অগ্রগতি, বিভিন্ন জেলার পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত হন।

পুলিশ সদর দপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে সারা দেশের ভোটকেন্দ্রগুলোর তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় এই কক্ষের মাধ্যমে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। ভোটগ্রহণ শুরুর পর থেকে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে কি না, ভোটার উপস্থিতির হার, নিরাপত্তাজনিত অভিযোগ এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তা—এসব বিষয় এখানে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

নিয়ন্ত্রণ কক্ষে উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, ভোটগ্রহণকে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল রাখতে সারাদেশে পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিন স্তরের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কেন্দ্রের ভেতরে ও আশপাশে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি মোবাইল টিম ও টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল বাহিনী।

প্রধান উপদেষ্টা নিয়ন্ত্রণ কক্ষে বসে বিভিন্ন জেলার লাইভ আপডেট পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। তিনি ভোটগ্রহণের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এ সময় বলেন, ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা বা আইনভঙ্গের ঘটনা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। তিনি জানান, নির্বাচন ঘিরে সারাদেশে একটি সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।

আইজিপি বাহারুল আলম নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কার্যক্রম সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করে বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভোটগ্রহণের প্রতিটি পর্যায় নজরদারিতে রাখা হয়েছে। জেলা ও থানা পর্যায় থেকে প্রাপ্ত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষে পৌঁছাচ্ছে, ফলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ভোটগ্রহণের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের পাশাপাশি আনসার ও অন্যান্য বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। ভোটকেন্দ্রের আশপাশে অবৈধ জমায়েত, প্রভাব বিস্তার বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা প্রতিরোধে নিয়মিত টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটগ্রহণের দিন কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে শীর্ষ পর্যায়ের এ ধরনের পর্যবেক্ষণ নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। এতে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিক ধারণা পাওয়া যায় এবং প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ দ্রুত করা সম্ভব হয়।

ভোটগ্রহণ চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া এই উদ্যোগের মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সারাদেশের ভোটগ্রহণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ