জাতীয় ডেস্ক
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আজ রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় স্থাপিত অস্থায়ী পর্যবেক্ষণ কক্ষ থেকে সারাদেশের ভোটগ্রহণের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন। ভোটদানের দিন আইনশৃঙ্খলা, ভোটকেন্দ্রের কার্যক্রম এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতির অবস্থা সম্পর্কে অবহিত হতে তিনি এই পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রেস উইং জানায়, পর্যবেক্ষণ কক্ষে বসে প্রধান উপদেষ্টা দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও প্রতিবেদন পর্যালোচনা করেন। এ সময় ভোটগ্রহণের অগ্রগতি, ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয় কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হয়। বিভিন্ন পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য গ্রহণ করা হয়।
রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় স্থাপিত এই অস্থায়ী পর্যবেক্ষণ কক্ষটি ভোটগ্রহণের দিন কেন্দ্রীয় পর্যায়ে পরিস্থিতি নজরদারির জন্য ব্যবহৃত হয়। সাধারণত জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি, বিশেষ করে নির্বাচন উপলক্ষে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নীতিনির্ধারকরা এ ধরনের পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে সারাদেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত থাকেন। এতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের সুযোগ তৈরি হয়।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভোটগ্রহণের সময় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে এই পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ জন্য নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখা হয়।
বাংলাদেশে নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভোটগ্রহণের দিন ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা সরকারের অন্যতম দায়িত্ব। এ প্রেক্ষাপটে প্রধান উপদেষ্টার সরাসরি পর্যবেক্ষণকে প্রশাসনিক তৎপরতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নির্বাচনের সময় কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণ কক্ষ থেকে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে বিভিন্ন অঞ্চলের পরিস্থিতির তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হয়। এতে কোথাও ভোটগ্রহণে ধীরগতি, ভোটকেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সমস্যা বা নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখা দিলে তা দ্রুত চিহ্নিত করা সম্ভব হয়। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে নির্দেশনা দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উদ্যোগ নেওয়া হয়।
প্রধান উপদেষ্টার পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম চলাকালে নির্বাচন ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় তথ্য ও পরামর্শ প্রদান করেন। এতে করে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক পরিবেশ তৈরি হয়। সরকারপ্রধানের এই ধরনের সরাসরি তদারকি নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি নির্বাচনকালীন সময়ে প্রশাসনিক কার্যক্রমের ওপর নজরদারি করছেন। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রস্তুতি ও তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
প্রেস উইং সূত্রে আরও জানানো হয়, পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম শেষে প্রাপ্ত তথ্য ও প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে। ভোটগ্রহণের দিন শেষ হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতির ওপর নজরদারি অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।


