ভোটাধিকার বিষয়ে বক্তব্য দিলেন ড. আব্দুল মঈন খান

ভোটাধিকার বিষয়ে বক্তব্য দিলেন ড. আব্দুল মঈন খান

রাজনীতি ডেস্ক

নরসিংদীর পলাশ উপজেলার চরনগরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার সকালে ভোট প্রদান শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনের প্রার্থী ড. আব্দুল মঈন খান বাংলাদেশের গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও রাজনৈতিক সচেতনতা নিয়ে মন্তব্য করেন। ভোটকেন্দ্র প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, উন্নত দেশের তুলনায় বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের প্রশ্নে অধিক সচেতন এবং তারা ভোটাধিকারকে একটি মৌলিক রাজনৈতিক অধিকার হিসেবে বিবেচনা করে।

ড. মঈন খান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ তাদের রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কে অবগত এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণে আগ্রহী। তার বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের নাগরিকরা ভোটাধিকারকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখে এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থা রাখে। ভোট প্রদানের মাধ্যমে জনগণ রাষ্ট্র পরিচালনায় নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে চায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ভোটগ্রহণের পরিবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় পর দেশে ভোটের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে আসার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তার বক্তব্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের প্রসঙ্গ উঠে আসে, যেখানে তিনি দাবি করেন যে অতীতে অনুষ্ঠিত কয়েকটি নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক ও অভিযোগ ছিল। বর্তমান নির্বাচনে জনগণ তুলনামূলকভাবে শান্ত ও সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এ ক্ষেত্রে তিনি সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত রাজনৈতিক আন্দোলন ও পরিবর্তনের কথাও উল্লেখ করেন, যার ফলে নির্বাচনমুখী পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে তার অভিমত।

ড. আব্দুল মঈন খান নিজেকে একজন রাজনৈতিক নেতা নয়, বরং রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ অনুসরণ করে রাজনীতি করে আসছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত জনগণের কল্যাণ ও অধিকার রক্ষা। রাজনৈতিক কার্যক্রম যদি মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন না আনে, তাহলে সেই রাজনীতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে—এমন বক্তব্যও তিনি তুলে ধরেন।

ভোটগ্রহণ শেষে ড. মঈন খান আশা প্রকাশ করেন, জনগণের রায়ের ভিত্তিতে দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের মতামত প্রতিফলিত হলে তা রাষ্ট্র পরিচালনায় স্থিতিশীলতা ও রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক হবে। তার মতে, ভোটের ফলাফলই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা।

নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা হিসেবে পরিচিত। এ আসনে বিভিন্ন সময়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় সংগঠনগুলোর সক্রিয়তা এবং ভোটারদের অংশগ্রহণের হার সাধারণত বেশি থাকে। এবারের নির্বাচনেও ভোটারদের উপস্থিতি ও আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ছিলেন পলাশ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সাত্তার, যুগ্ম সম্পাদক বাহাউদ্দীন ভূঁইয়া মিল্টন, পৌর বিএনপির সভাপতি আলম মোল্লা এবং থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান পাপন। তারা ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন এবং দলীয় কর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করেন।

সার্বিকভাবে, ড. আব্দুল মঈন খানের বক্তব্যে ভোটাধিকার, গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক সচেতনতার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে তার উপস্থিতি ও মন্তব্য স্থানীয় রাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নির্বাচন শেষে ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে এ আসনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কীভাবে এগোয়, তা নিয়ে স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক মহলের নজর রয়েছে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ