ভোটের দিন ঘিরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশের কথা জানালেন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান

ভোটের দিন ঘিরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশের কথা জানালেন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান

জাতীয় ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিনে তথ্য ও সম্প্রচার, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, বিতর্ক ও অনিশ্চয়তা অতিক্রম করে দেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভোটের দিনে পৌঁছেছে এবং ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রগুলোতে সুশৃঙ্খল পরিবেশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত হচ্ছেন।

রোববার ঢাকার ধানমন্ডির সেন্ট্রাল রোডে অবস্থিত আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে নিজের ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ভোট দেওয়ার পর কেন্দ্রের পরিবেশ, ভোটারদের উপস্থিতি এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে তিনি জানান, ভোটারদের মধ্যে অংশগ্রহণের আগ্রহ রয়েছে এবং তারা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিচ্ছেন।

উপদেষ্টা বলেন, ভোটের আগের দিন পর্যন্ত নির্বাচন নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন ও শঙ্কা ছিল। তিনি জানান, অনেক নাগরিক ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করে জানতে চেয়েছিলেন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কি না। দীর্ঘদিন ধরে দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় অবিশ্বাস ও সন্দেহের যে পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, ভোটের দিন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সেই ধারণার বিপরীত চিত্র তুলে ধরেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নিজের দায়িত্ব ও অবস্থান প্রসঙ্গে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, তিনি কখনোই ক্ষমতায় ছিলেন না, বরং নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে বর্তমান ভূমিকা পালন করছেন। দায়িত্ব পালনের বিষয়টি সময়সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর আগে বেসরকারি সংগঠন ‘বেলা’র প্রধান নির্বাহী হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে কাজ করেছেন, বর্তমানে উপদেষ্টা হিসেবে একই খাতে দায়িত্ব পালন করছেন এবং ভবিষ্যতেও পরিবেশ ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কাজে যুক্ত থাকার ইচ্ছা রয়েছে।

নির্বাচন-পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পর্কে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ফলাফল ঘোষণা ও পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়। গেজেট প্রকাশ ও নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথ সম্পন্ন হওয়ার পরই বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্তদের দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। সেই সময় পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম সচল রাখার অংশ হিসেবে উপদেষ্টারা দায়িত্ব পালন করে যাবেন বলেও তিনি জানান।

ভোটগ্রহণের দিন সরকারি দায়িত্ব পালনের সীমারেখা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শপথের মুহূর্ত থেকেই নতুন সরকার কার্যভার গ্রহণ করবে এবং তখন বর্তমান উপদেষ্টাদের আর দায়িত্ব থাকবে না। তবে তার আগ পর্যন্ত প্রশাসনিক ও রাষ্ট্রীয় কাজ নিয়মিতভাবে চলমান থাকবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা, অংশগ্রহণ ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক ছিল। ভোটের দিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের খবর পাওয়া গেছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ রাখতে প্রয়োজনীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের সমন্বয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটার উপস্থিতি ও ভোটগ্রহণের পরিবেশ নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই প্রেক্ষাপটে ভোটের দিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টার বক্তব্য দেশের চলমান গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে একটি তাৎক্ষণিক চিত্র তুলে ধরে।

নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর গেজেট প্রকাশ ও শপথ অনুষ্ঠান শেষে নতুন সংসদ কার্যক্রম শুরু করবে। তখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ন্যস্ত হবে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোট গণনা ও ফল প্রকাশের প্রক্রিয়া আইন অনুযায়ী সম্পন্ন করা হবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ