রাজশাহী — জেলা প্রতিনিধি
রাজশাহী-২ (সদর) আসনের বিএনপি প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট কেন্দ্র থেকে তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। ভোটগ্রহণ শুরুর পরপরই তিনি কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ভোট দেন। এ সময় কেন্দ্র এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
সকালের শুরু থেকেই রাজশাহী-২ আসনের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি দেখা যায়। নারী-পুরুষ ভোটাররা সারিবদ্ধভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট প্রদানের জন্য অপেক্ষা করেন। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় পর ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত ভোটগ্রহণের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। জয়ের সম্ভাবনা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভোটারদের সাড়া ইতিবাচক এবং সুষ্ঠুভাবে ভোট গণনা সম্পন্ন হলে তিনি আশাবাদী ফলাফল আসবে। একই সঙ্গে তিনি ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে এসে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
রাজশাহী-২ আসনে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর। সকাল থেকে এই আসনের বিভিন্ন কেন্দ্রে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের উপস্থিতি দেখা গেছে। তবে নির্বাচন শুরুর পর থেকে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি বলে স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
রাজশাহী-২ (সদর) আসনটি ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি সংসদীয় আসন হিসেবে বিবেচিত। নগরীর প্রশাসনিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ এই আসনের আওতায় থাকায় রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য এটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণাকালে উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী-২ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৫৬৪ জন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নতুন ভোটার রয়েছেন, যারা এবার প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্ন করতে প্রতিটি কেন্দ্রে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও পোলিং কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, আনসার ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ভোটগ্রহণ শেষে কেন্দ্রগুলোতে গণনা কার্যক্রম সম্পন্ন করে ফলাফল ঘোষণা করা হবে। নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন।
এদিকে ভোটের দিনকে কেন্দ্র করে নগরীতে যানবাহন চলাচলে কিছু নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও কেন্দ্র সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।


