কুমিল্লা-৪ আসনে হাসনাত আব্দুল্লাহর বিজয়, ইনসাফ ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি

কুমিল্লা-৪ আসনে হাসনাত আব্দুল্লাহর বিজয়, ইনসাফ ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি

রাজনীতি ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসন থেকে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ভোটগ্রহণ ও গণনা শেষে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর তুলনায় উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। নির্বাচনে বিজয়ের পর বিকেলে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলে তিনি এলাকায় ইনসাফ প্রতিষ্ঠা ও সামগ্রিক উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা-৪ আসনের মোট ১১৬টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফলে হাসনাত আব্দুল্লাহ প্রতিটি কেন্দ্রেই এগিয়ে ছিলেন। তিনি শাপলা কলি প্রতীকে মোট ১ লাখ ৭২ হাজার ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী জসীমউদ্দীন পেয়েছেন ২৬ হাজার ভোট। এই ফলাফলের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে তাকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।

নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ভোটারদের আস্থার প্রতিফলন হিসেবেই তিনি এই বিজয়কে দেখছেন। তিনি দাবি করেন, নির্বাচন ছিল বহুমাত্রিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। তবে শেষ পর্যন্ত জনগণের সমর্থনই ফলাফলে প্রতিফলিত হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জনগণের আস্থা ও সমর্থনই তাকে বিজয়ের পথে এগিয়ে নিয়েছে।

বিজয়োত্তর প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, নির্বাচিত হওয়ার পর তার প্রধান লক্ষ্য হবে এলাকায় ন্যায়বিচার বা ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা এবং উন্নয়ন কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়া। তিনি জানান, রাজনৈতিক ভিন্নমত থাকা সত্ত্বেও সবার জন্য সমান ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার চেষ্টা করবেন। পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মতো খাতগুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন।

কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। এ আসনে বিভিন্ন সময় জাতীয় ও স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। এবারের নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে হাসনাত আব্দুল্লাহর অংশগ্রহণ স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করে। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি উন্নয়ন, সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের বিষয়টি তুলে ধরেন বলে তার দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সবগুলো ভোটকেন্দ্রে এগিয়ে থাকা কোনো প্রার্থীর জন্য বড় ধরনের সাংগঠনিক সাফল্যের ইঙ্গিত বহন করে। এটি একদিকে যেমন ভোটার উপস্থিতি ও সমর্থনের চিত্র তুলে ধরে, অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তুলনায় নির্বাচনী কৌশল ও প্রচারণার কার্যকারিতারও প্রতিফলন ঘটায়। তবে নির্বাচনের সার্বিক পরিবেশ, ভোটার উপস্থিতির হার এবং অন্যান্য পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণ নির্বাচন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশের পর স্পষ্ট হবে।

বেসরকারি ফলাফল ঘোষণার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করবে। এরপর নতুন সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ ও শপথ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে কুমিল্লা-৪ আসনের ভোটারদের প্রত্যাশা এখন নবনির্বাচিত প্রতিনিধির কার্যক্রমের দিকে কেন্দ্রীভূত। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, স্থানীয় সমস্যা সমাধান এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত করা—এসব বিষয়ে তার ভূমিকা আগামী দিনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ