জাতীয় ডেস্ক
জুলাই সনদের আওতায় সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত ৪৮ দফা বাস্তবায়নের প্রশ্নে অনুষ্ঠিত চতুর্থ গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার সমর্থন জানিয়েছেন। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর নির্বাচন ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করেন।
ইসি সচিবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গণভোটে অংশ নিয়েছেন মোট ৭ কোটি ৬ লাখ ৪০ হাজার ৫৬ জন ভোটার। নিবন্ধিত ভোটারের তুলনায় ভোটদানের হার দাঁড়িয়েছে ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ। এর মধ্যে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন ভোটার প্রস্তাবিত সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়নের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন, যা মোট প্রদত্ত ভোটের ৬৮ দশমিক ০৬ শতাংশ। অপরদিকে, ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭ জন ভোটার ‘না’ ভোট দিয়েছেন, যার হার ৩১ দশমিক ৯৪ শতাংশ।
ইসি সচিব জানান, দেশের সব কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত ফলাফল সমন্বয় করে এই চূড়ান্ত পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে। গণভোট গ্রহণ ও ফলাফল প্রক্রিয়াকরণে নির্ধারিত আইন ও বিধি অনুসরণ করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জুলাই সনদে প্রস্তাবিত ৪৮ দফার মধ্যে সংবিধানের বিভিন্ন ধারা সংশোধন, রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামোগত সংস্কার, নির্বাচন ব্যবস্থা পুনর্বিন্যাস, ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিতকরণ এবং নাগরিক অধিকারের সুরক্ষা জোরদারের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। গণভোটের মাধ্যমে এসব প্রস্তাবের প্রতি জনগণের সরাসরি মতামত নেওয়া হয়।
বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে গণভোট একটি সাংবিধানিক ও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত হয়। অতীতে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংসদীয় প্রক্রিয়ার পাশাপাশি জনগণের প্রত্যক্ষ মতামত গ্রহণের নজির রয়েছে। এবারের গণভোটও সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রদত্ত ফলাফল অনুযায়ী প্রস্তাবিত ৪৮ দফা বাস্তবায়নের পথে সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। তবে গণভোটে অনুমোদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সংশোধন কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ, গেজেট প্রকাশ এবং বাস্তবায়ন কাঠামো নির্ধারণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংসদ, আইন মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
অন্যদিকে, মোট ভোটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভোটার প্রস্তাবের বিপক্ষে মত দিয়েছেন। ফলে ভবিষ্যতে সংস্কার বাস্তবায়নের সময় বিভিন্ন মহলের মতামত ও উদ্বেগ বিবেচনায় নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও পেশাজীবী সংগঠনগুলো ইতোমধ্যে বিভিন্ন দিক থেকে প্রস্তাবিত সংস্কার নিয়ে মতামত তুলে ধরেছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, গণভোট-পরবর্তী আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করে তা সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। একই সঙ্গে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সংক্রান্ত যেকোনো আপত্তি বা অভিযোগ নির্ধারিত আইনি কাঠামোর আওতায় নিষ্পত্তি করা হবে।
গণভোটের এই ফলাফলের মাধ্যমে জুলাই সনদের ৪৮ দফা বাস্তবায়নের প্রশ্নে ভোটারদের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামত স্পষ্ট হয়েছে। এখন পরবর্তী সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে সংস্কার প্রস্তাবগুলো কীভাবে এবং কত সময়ের মধ্যে কার্যকর করা হবে।


