রাজনীতি ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক আসনে বিজয়ের দাবি করে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। একই সঙ্গে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনে বিজয় উদ্যাপন উপলক্ষে কোনো ধরনের আনন্দ মিছিল বা সভা-সমাবেশ করা যাবে না। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ৩টার দিকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি বিপুল সংখ্যক আসনে নির্বাচিত হওয়ায় ঢাকা মহানগরসহ সারা দেশে দলটির পক্ষ থেকে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। এতে ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করা হয়। দলটি জানায়, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ এবং সমর্থনের ফলেই এই সাফল্য এসেছে বলে তারা মনে করে।
নির্বাচন-পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) জুমার নামাজের পর ঢাকাসহ দেশব্যাপী মসজিদে দোয়া মাহফিল আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন মরহুমা খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে প্রার্থনা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। দলটির কেন্দ্রীয় নির্দেশনার আলোকে স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্ট মসজিদে দোয়ায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে বিএনপি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর দলীয়ভাবে কোনো আনন্দ মিছিল, শোভাযাত্রা বা জনসভা আয়োজন করা যাবে না। এ বিষয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সদস্যদের প্রয়োজনীয় সংযম প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, কেবল মুসলিম সম্প্রদায় নয়, অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদেরও নিজ নিজ উপাসনালয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে প্রার্থনা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সে অনুযায়ী মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ বিভিন্ন উপাসনালয়ে সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষদের প্রার্থনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও তৎপরতা ছিল। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সাধারণত বিজয়ী দলগুলো আনন্দ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে থাকে। তবে এ ক্ষেত্রে বিএনপির পক্ষ থেকে এমন কর্মসূচি পরিহারের ঘোষণা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে নির্বাচন-পরবর্তী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সার্বিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রশ্নটি সামনে রেখে দলটি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পর উদ্যাপনকে সীমিত রেখে দোয়া ও প্রার্থনার মতো কর্মসূচিতে গুরুত্ব দেওয়া দলটির পক্ষ থেকে একটি প্রতীকী বার্তা বহন করতে পারে। এর মাধ্যমে দলটি সমর্থকদের আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সম্ভাব্য উত্তেজনা এড়ানোর কৌশল নিয়েছে বলেও অনেকে মনে করছেন। তবে এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ও গেজেট প্রকাশ, সরকার গঠন প্রক্রিয়া এবং সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বানের বিষয়গুলো আগামী দিনগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সে প্রেক্ষাপটে বিএনপির এই ঘোষণাকে নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


