জাতীয় ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর দেশব্যাপী শোকরানা দোয়া ও বিশেষ প্রার্থনার আয়োজনের অনুরোধ জানিয়েছে সরকার। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানায়, নির্বাচন উপলক্ষে আগামী শুক্রবার দেশের সকল মসজিদে বাদ জুম’আ শোকরানা দোয়া এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে নিজ নিজ ধর্মমতে বিশেষ প্রার্থনা আয়োজনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও কল্যাণ কামনায় মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অংশ হিসেবে এই কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডাসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে সুবিধাজনক সময়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শুক্রবার জুমার নামাজের পর দেশের প্রতিটি মসজিদে শোকরানা দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের উপাসনালয়গুলোতেও স্ব স্ব ধর্মীয় রীতিনীতির আলোকে দেশের শান্তি ও মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা আয়োজন করা হবে। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থানের চর্চাকে গুরুত্ব দিয়ে সব ধর্মাবলম্বীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক এবং হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ও খ্রিষ্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সচিবদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে স্থানীয় পর্যায়ে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে।
বাংলাদেশে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও রাষ্ট্রীয় অর্জন উপলক্ষে শোকরানা দোয়া বা বিশেষ প্রার্থনার আয়োজনের নজির অতীতেও রয়েছে। বিভিন্ন সময় জাতীয় দিবস, প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে উত্তরণ কিংবা রাষ্ট্রীয় সাফল্য উপলক্ষে মসজিদসহ অন্যান্য উপাসনালয়ে দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের কর্মসূচিকে ধর্মীয় ও সামাজিক ঐক্য সুদৃঢ় করার একটি উপায় হিসেবে দেখা হয়।
ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ হিসেবে বাংলাদেশে সংবিধান অনুযায়ী সব ধর্মাবলম্বীর সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে একযোগে প্রার্থনার আয়োজন পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সহাবস্থানের বার্তা বহন করে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। এবারের কর্মসূচিও সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে বাস্তবায়িত হবে বলে জানা গেছে।
মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্ট সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ইমাম, পুরোহিত, পাদ্রি, ভিক্ষু এবং ধর্মীয় সংগঠনের দায়িত্বশীলদের প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মসূচি যথাযথভাবে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ঘোষিত এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতি অব্যাহত রাখার জন্য প্রার্থনা করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।


