রাজনীতি ডেস্ক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রামের পর ‘বিজয়’ অর্জনের কথা উল্লেখ করেছেন। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা জানান এবং বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি ধন্যবাদ প্রকাশ করেন।
ফেসবুক পোস্টে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘ সময়ের সংগ্রামের পর অর্জিত এই বিজয় বাংলাদেশের বিজয়। তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণ করেন এবং বিভিন্ন সময়ে নিহত দলীয় নেতা-কর্মীদের কথাও উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দলের চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-কে স্মরণ করেন।
পোস্টে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নাম উল্লেখ করে দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। এছাড়া ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সাধারণ জনগণের প্রতিও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি অন্তর্বর্তী সরকার, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে দায়িত্ব বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি সবার কাছে দোয়া কামনা করেন, যাতে তিনি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেন এবং জনগণের জন্য কাজ করতে পারেন।
মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্য এমন এক প্রেক্ষাপটে এসেছে, যখন দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দীর্ঘ সময় ধরে অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত এক দশকের বেশি সময় ধরে বিএনপি সরকারের বিভিন্ন নীতি ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে আসছে। দলটির দাবি, তাদের নেতা-কর্মীরা রাজনৈতিক কারণে বিভিন্ন সময় গ্রেপ্তার, মামলা ও সহিংসতার শিকার হয়েছেন। অন্যদিকে সরকার পক্ষ এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আইনানুগ ব্যবস্থার কথা বলে এসেছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে ‘১৭ বছরের সংগ্রাম’ বলতে ২০০৭ সালের পরবর্তী সময়কালকে বোঝানো হয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে দলটি ধারাবাহিকভাবে নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন এবং রাজনৈতিক অধিকারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এ সময়ের মধ্যে বিভিন্ন আন্দোলন, সমাবেশ, হরতাল ও কর্মসূচির মাধ্যমে দলটি তাদের অবস্থান তুলে ধরে।
মির্জা ফখরুলের পোস্টে ‘বিজয়’ শব্দটির উল্লেখ রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে তিনি নির্দিষ্ট করে কোনো ঘটনার প্রেক্ষিতে এই মন্তব্য করেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন, আন্দোলনের ফলাফল বা দলীয় অর্জনকে সামনে রেখে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এই পোস্ট ইতোমধ্যে দলীয় সমর্থক ও সাধারণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সমর্থকরা এটিকে দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে বিরোধী রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচি ও দলীয় কৌশলের ইঙ্গিত বহন করতে পারে। সামনে জাতীয় রাজনীতিতে বিএনপির অবস্থান, আন্দোলন কৌশল এবং অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্কের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ফেসবুক পোস্ট দেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। দলীয় নেতৃত্ব ও কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি তিনি দায়িত্ববোধের কথাও উল্লেখ করেছেন, যা আগামী দিনগুলোতে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মপন্থায় প্রতিফলিত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।


