রাজনীতি ডেস্ক
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল অর্জন করতে না পারায় দলটির কেন্দ্রীয় দপ্তরে কার্যত নিস্তব্ধতা দেখা যায়।
নির্বাচনকালীন সময় ও ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর মধ্যরাত পর্যন্ত কার্যালয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল। ফলাফল ঘোষণার আগে দলটির পক্ষ থেকে সরকার গঠনের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছিল। তবে চূড়ান্ত ফলাফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সরকার গঠনের পথে এগিয়ে গেলে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কর্মতৎপরতা কমে আসে।
শুক্রবার দুপুরে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হন। তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা না বলে সরাসরি ভেতরে প্রবেশ করেন। দলীয় সূত্র জানায়, নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনা ও পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে তিনি বৈঠকে অংশ নেন।
দলীয় দায়িত্বশীলরা জানান, জুমার নামাজের পর কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতাদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ, সাংগঠনিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হবে। বৈঠক শেষে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হতে পারে বলে জানা গেছে।
এবারের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল হিসেবে অংশ নেয়। চূড়ান্ত ফলাফলে তারা সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। তবে দলীয় সূত্রের দাবি, অতীতের তুলনায় এবারের নির্বাচনে তারা তুলনামূলক বেশি আসন পেয়েছে, যা তাদের সাংগঠনিক ভিত্তি সম্প্রসারণের ইঙ্গিত বহন করে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া যে কোনো রাজনৈতিক দলের জন্য সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। এ অবস্থায় দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্য বজায় রাখা, মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সক্রিয় রাখা এবং ভোটের ফলাফল পর্যালোচনা করে কৌশল পুনর্নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। জামায়াতে ইসলামীর ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা প্রযোজ্য বলে তারা মনে করছেন।
নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নতুন সমীকরণ গড়ে ওঠার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সরকার গঠনে ব্যর্থ হলেও সংসদে প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে বিরোধী রাজনৈতিক ভূমিকা কীভাবে পালন করবে, তা এখন দলটির সামনে অন্যতম প্রশ্ন।
কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি দলটির নির্বাচনী ফলাফলের তাৎক্ষণিক প্রভাবকে প্রতিফলিত করলেও দলীয় বৈঠক ও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার পর তাদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান আরও স্পষ্ট হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন।


