মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় মার্কিন বিমানবাহী রণতরি মোতায়েনের প্রস্তুতি

মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় মার্কিন বিমানবাহী রণতরি মোতায়েনের প্রস্তুতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র আরও একটি বিমানবাহী রণতরি মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এ তথ্য প্রকাশিত হয়। এ পদক্ষেপকে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য উত্তেজনা মোকাবিলায় সামরিক উপস্থিতি জোরদারের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনের জন্য একটি দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরিকে প্রস্তুত রাখতে সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে। এটি ইতোমধ্যে ওই অঞ্চলে অবস্থানরত USS Abraham Lincoln-এর সঙ্গে যোগ দিতে পারে। বর্তমানে রণতরিটি মধ্যপ্রাচ্য সংলগ্ন জলসীমায় অবস্থান করছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপ এমন সময়ে সামনে এলো, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা কমানো এবং সম্ভাব্য সমঝোতার পথ খোঁজার বিষয়ে আলোচনা চলছে। বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি প্রতিবেদন শেয়ার করেন, যেখানে মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরি প্রস্তুতের বিষয়টি উল্লেখ ছিল। যদিও তিনি এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি, তবে পদক্ষেপটি সামরিক প্রস্তুতি জোরদারের ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এদিকে একই দিন হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, বিশেষ করে ইরানকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক-পরবর্তী বার্তায় ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি বা সমঝোতার সুযোগ যাচাই করতে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ওপর তিনি জোর দিয়েছেন। তবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরি মোতায়েন নতুন নয়। উপসাগরীয় অঞ্চল এবং পূর্ব ভূমধ্যসাগরে দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি রয়েছে। সাধারণত এসব রণতরি যুদ্ধবিমান, নজরদারি বিমান এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ পূর্ণাঙ্গ সামরিক সক্ষমতা নিয়ে মোতায়েন করা হয়। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি বা সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিলে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর কৌশলের অংশ হিসেবেই এ ধরনের মোতায়েন বাড়ানো হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ। পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাতে ইরানের ভূমিকা নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের মতপার্থক্য রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি জোরদার আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে নতুন কৌশলগত সমীকরণ তৈরি করতে পারে।

অন্যদিকে ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। ইসরায়েলি নেতৃত্ব ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের পক্ষে সওয়াল করে থাকে। ফলে ওয়াশিংটন-তেলআবিবের ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা সমন্বয় এ অঞ্চলের ভূরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তির ভারসাম্য, কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজরে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে তা আঞ্চলিক উত্তেজনার গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ