রাজনীতি ডেস্ক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভবিষ্যতে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল-এ নির্বাচন-পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সাম্প্রতিক নির্বাচন দলীয় ঐক্য ও জনসমর্থনের প্রতিফলন ঘটিয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, তারেক রহমানের নেতৃত্বে দল সাংগঠনিকভাবে সুসংগঠিত রয়েছে এবং দেশের জনগণও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচনের ফলাফল উদারপন্থী গণতান্ত্রিক ধারার প্রতি জনগণের সমর্থনকে প্রতিফলিত করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, নজরুল ইসলাম খান, ড. আব্দুল মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমেদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এবং ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনটি ছিল নির্বাচন-পরবর্তী দলের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানোর অংশ। এতে দলীয় অবস্থান, ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল এবং নেতৃত্বের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে তারেক রহমানকে দলের নীতিনির্ধারণী নেতৃত্বের কেন্দ্রে রেখে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দলের অভ্যন্তরে তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কর্মসূচি নির্ধারণে ভূমিকা রাখছেন।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন ও সরকার গঠনের বিষয়টি জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ওপর নির্ভরশীল। সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বা জোট সরকার গঠন করে। সেই প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী নির্ধারণের বিষয়টি নির্বাচনী ফলাফল ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পর দলীয় নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রকাশ্য বক্তব্য রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। এতে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বার্তা দেওয়া এবং রাজনৈতিক অবস্থান সুস্পষ্ট করার প্রয়াস থাকে।
এদিকে, নির্বাচন-পরবর্তী সময় দেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দলগুলোর পারস্পরিক অবস্থান এবং সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন দল তাদের নিজ নিজ মূল্যায়ন ও পরিকল্পনা সামনে আনছে।
সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য বিএনপির নেতৃত্ব প্রশ্নে দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করেছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। তবে ভবিষ্যৎ সরকার গঠন ও নেতৃত্ব নির্ধারণের বিষয়টি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ও নির্বাচনী ফলাফলের ওপর নির্ভরশীল থাকবে।


