রাজনীতি ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন আসনের বেসরকারিভাবে বিজয়ী সংসদ সদস্যরা শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সঙ্গে গুলশান কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। নির্বাচনে দলের প্রার্থীরা বিপুল বিজয় অর্জন করায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) এই সাক্ষাতের তথ্য জানানো হয়েছে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে জানা যায়, মোট ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি একাই জয় লাভ করেছে ২০৯টি আসনে। জোটের অংশীদাররা আরও ৩টি আসনে জয় পেয়েছে। সব মিলিয়ে আগামী সংসদে বিএনপি জোটের আসনসংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ২১২টি। এছাড়া আরও দুটি আসনে জয়লাভের সম্ভাবনা রয়েছে বিএনপির।
এবারের নির্বাচনে তারেক রহমান প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ঢাকা ও বগুড়া থেকে দুইটি আসনে জয়লাভ করেছেন।
এর আগে ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি চারদলীয় জোটের অংশ হিসেবে অংশগ্রহণ করেছিল। সেসময় বিএনপি একাই ১৯৩টি আসনে জয়ী হয়েছিল এবং জোটের মোট আসনসংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ২১৬। ওই নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এবারের নির্বাচনে বিএনপির বড় অংশীদারিত্ব আগামী সংসদে তাদের নীতি নির্ধারণ এবং আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হবে। এছাড়া দুইটি সম্ভাব্য জয়ী আসন এবং জোটের কার্যক্রম পরবর্তী রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে আরও দৃঢ় করে তুলতে পারে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় এবং জোটশক্তি সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারলে বিএনপি আগামী সংসদে কার্যকরভাবে প্রভাব রাখার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের ফলে দলীয় প্রার্থীদের রাজনৈতিক কার্যক্রম এবং জাতীয় নীতি প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ আরও সক্রিয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া, এবারের নির্বাচনে বিএনপির জয়লাভ তাদের রাজনৈতিক পুনর্জাগরণ ও সমর্থক ভিত্তি মজবুত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব আগামী সময়ে সরকারি নীতি ও জাতীয় সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান দৃঢ়ভাবে প্রতিপাদন করতে পারে।


