রাজনীতি ডেস্ক
নড়াইল-২ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিজয়ী হয়ে ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের জেলা আমির মো. আতাউর রহমান (বাচ্চু)। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে লোহাগড়া উপজেলার কুমড়ি এলাকায় আয়োজিত এক গণসংবর্ধনায় তিনি এই ফলাফলকে জনগণের সমর্থন ও ভালোবাসার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন।
নির্বাচন-পরবর্তী দিনগুলোতে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আতাউর রহমান সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। কুমড়ি সংবর্ধনায় তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর প্রথমবার এই আসনে জামায়াতের একজন প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। একই সঙ্গে এটিও প্রথমবার যে, এই আসনে বিরোধী কোনো দলের প্রার্থী সংসদ সদস্য হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তিনি নির্বাচকেরা প্রদত্ত বিশ্বাস ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, জনগণের সেবক হয়ে কাজ করবেন।
আতাউর রহমান আরও জানিয়েছেন, গত দেড় বছর ধরে তিনি উপজেলার প্রতিটি মহল্লায় ঘুরে স্থানীয় জনগণের সমস্যা চিহ্নিত করেছেন। তিনি এলাকার গুরুত্ব অনুসারে ধাপে ধাপে সমস্যার সমাধান করার অঙ্গীকার করেন এবং নিজেকে নড়াইল-২ আসনের পরিচ্ছন্নতা ও সেবামূলক কার্যক্রমে নিয়োজিত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে তিনি উন্নত, আধুনিক ও স্মার্ট নড়াইল গড়ার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।
নির্বাচনী খরচ ও স্বচ্ছতা বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনে জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থনই সবচেয়ে বড় শক্তি। তিনি নিশ্চিত করেছেন, সরকারি বরাদ্দের প্রতিটি টাকার হিসাব জনগণের সামনে থাকবে এবং কোনও অনিয়ম করা হবে না।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নড়াইল-২ আসনে মোট ১৪৮টি কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফলের ভিত্তিতে আতাউর রহমান বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। তিনি ১ লাখ ১৮ হাজার ১৪২ ভোট লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা মো. মনিরুল ইসলাম (কলস প্রতীক) পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৪৫৭ ভোট। এছাড়া ধানের শীষ প্রতীকধারী বিএনপি প্রার্থী এ জেড এম ফরিদুজ্জামান পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৪৬৩ ভোট। ফলে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ৩৯ হাজার ৬৮৫ ভোটে বিজয়ী হয়েছেন আতাউর রহমান।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এটিকে নড়াইল-২ আসনের রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে অভিহিত করছেন। বিশেষ করে এবার হেভিওয়েট প্রার্থীদের হারিয়ে জামায়াতের প্রার্থীর জয়কে জেলার রাজনৈতিক মানচিত্রে একটি বড় ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নির্বাচনী ফলাফল এবং স্থানীয় পর্যায়ের গণসংবর্ধনা ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আতাউর রহমানের পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আসনটির উন্নয়ন ও স্থানীয় জনগণের কল্যাণে কার্যক্রম শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


