নির্বাচন-পরবর্তী নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, রাজধানীতে যান চলাচল স্বাভাবিকের পথে

নির্বাচন-পরবর্তী নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, রাজধানীতে যান চলাচল স্বাভাবিকের পথে

জাতীয় ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আরোপিত যানবাহন চলাচলের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর রাজধানীসহ সারাদেশে সড়কে মোটরসাইকেল এবং অন্যান্য যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টা থেকে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী এই নিষেধাজ্ঞা অকার্যকর হয়। ফলে নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পর সড়ক পরিবহন স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে শুরু করেছে।

সরেজমিনে শনিবার সকালে রাজধানীর রামপুরা, হাতিরঝিল ও কারওয়ান বাজার মোড় এলাকায় দেখা যায়, মোটরসাইকেল, বাস, প্রাইভেটকার, সিএনজি অটোরিকশা ও পিকআপসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন সড়কে চলাচল করছে। তবে যানবাহনের সংখ্যা সাধারণ কর্মদিবসের তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম ছিল। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টানা ছুটি এবং চলাচল সীমিত থাকার কারণে অনেকেই এখনো রাজধানীতে ফেরেননি। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) থেকে পূর্ণ কর্মদিবস শুরু হলে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাণিজ্যিক এলাকায়ও স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বসুন্ধরা সিটি শপিংমল শনিবার সকাল থেকে খোলা থাকে এবং বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতাদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পায়। শপিংমলের পার্কিং এলাকায় ব্যক্তিগত গাড়ির উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে। ব্যবসায়ীরা আশা প্রকাশ করেছেন, কর্মদিবস শুরু হলে ক্রেতাসমাগম আরও বাড়বে।

নির্বাচন উপলক্ষে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ গত ১ ফেব্রুয়ারি এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে যানবাহন চলাচলের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এতে ১০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর ৭২ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। পাশাপাশি ১১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার জন্য ট্যাক্সিক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং ভোটগ্রহণ কার্যক্রম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর পরিবহন চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অধিকাংশ চালক ইতোমধ্যে নিয়মিত কার্যক্রমে ফিরে এসেছেন। মোটরসাইকেলচালক রিয়ান আরাফাত জানান, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে ব্যক্তিগত যাতায়াতে অসুবিধা হলেও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে পুনরায় স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছেন। পিকআপচালক মামুনুর রশিদ বলেন, নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর থেকে সড়কে চলাচলে কোনো প্রশাসনিক বাধা নেই, তবে যাত্রী ও পণ্যের চাহিদা এখনও স্বাভাবিক পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আরোপিত এ ধরনের সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। এতে ভোটগ্রহণের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হয়। তবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর স্বল্প সময়ের জন্য সড়ক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দেওয়া স্বাভাবিক, যা কয়েক দিনের মধ্যে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসে।

সামগ্রিকভাবে, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে রাজধানীতে যান চলাচল ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। পূর্ণ কর্মদিবস শুরু হলে সড়কে যানবাহনের চাপ এবং নগর জীবনের গতি আরও বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ