আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক সংসদীয় নির্বাচনের পর নতুন সরকারের সঙ্গে অভিন্ন অগ্রাধিকারভিত্তিক সহযোগিতা জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্য। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়ন দপ্তর (এফসিডিও) এক বিবৃতিতে এ অবস্থান জানায়।
বিবৃতিতে এফসিডিওর এক মুখপাত্র বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের সংসদীয় নির্বাচনকে তারা স্বাগত জানাচ্ছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষিত হয়েছে এবং এটি বাংলাদেশের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নতুন সরকারের গণতান্ত্রিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবে লন্ডন। পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অভিবাসন, জলবায়ু পরিবর্তন ও নিরাপত্তা—এই চারটি খাতে দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার সম্পর্ক ঐতিহাসিক ও বহুমাত্রিক। স্বাধীনতার পর থেকেই কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতা সম্প্রসারিত হয়েছে। যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন অংশীদার এবং দেশটিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি বসবাস করেন, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করেছে।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি গন্তব্য। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে যুক্তরাজ্যের বাজার বাংলাদেশের জন্য উল্লেখযোগ্য। ব্রেক্সিট-পরবর্তী সময়ে বাণিজ্য সুবিধা অব্যাহত রাখা এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। নতুন সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদারের ঘোষণাকে বাণিজ্যিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা রক্ষার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অভিবাসন ও ভিসা নীতির বিষয়টিও দুই দেশের আলোচ্যসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি সম্প্রদায় শিক্ষা, ব্যবসা ও পেশাজীবী ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। অভিবাসন ব্যবস্থাপনা ও দক্ষ জনশক্তি বিনিময়ের ক্ষেত্রে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশ পূর্বেও আলোচনা করেছে।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছে। জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে অভিযোজন ও সহনশীলতা বৃদ্ধিতে আন্তর্জাতিক সহায়তা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাজ্য বৈশ্বিক জলবায়ু উদ্যোগে সক্রিয় এবং এ খাতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা রয়েছে। সন্ত্রাসবাদ দমন, সাইবার নিরাপত্তা এবং শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সমন্বয় বাড়ানো নিয়ে অতীতে আলোচনা হয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনের পর আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ। যুক্তরাজ্যের এই বিবৃতি নতুন সরকারের সঙ্গে বিদ্যমান সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত বহন করে।


