ক্রীড়া ডেস্ক
আগামীকাল রোববার শ্রীলঙ্কার কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ভারত-পাকিস্তান দ্বিপক্ষীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচ, যা ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য উন্মুক্ত উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু। ম্যাচের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রতিটি দলের স্পিনাররা মাঠে অনুশীলন করছেন নির্দিষ্ট কৌশল ও লক্ষ্য নিয়ে। প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুশীলন নেটের মধ্যে অফ ও লেগ স্টাম্প বরাবর দুটি দড়ি টানানো হয়েছে। এই ‘ট্রামলাইন’ অনুযায়ী ব্যাটসম্যানরা শট খেলার প্র্যাকটিস করছেন, যাতে তাদের ক্যারম এবং ব্যাক-স্পিনের উপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো যায়।
সাবেক শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার অজন্তা মেন্ডিস বিশ্লেষণ করেছেন পাকিস্তানি স্পিনার আবরার আহমেদ ও সাইম আইয়ুবের প্রস্তুতি। মেন্ডিসের মতে, এই দুই বোলার প্রেমাদাসার শুষ্ক উইকেটে সুবিধা পেতে সক্ষম। তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘ব্যাক-স্পিন দিয়ে করা ক্যারম বল এখানে স্কিড করবে। আবরার ও সাইম উভয়েই ব্যাক-স্পিনের ওপর নির্ভর করে। ফলে তারা স্বাভাবিকভাবেই সুবিধা পাবে।’ তাঁর অভিজ্ঞতায়, শুষ্ক পিচে স্কিডিং ক্যারম বল বোল্ড বা এলবিডব্লিউয়ের সম্ভাবনা বাড়ায়। টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ব্যাটাররা দ্রুত সিদ্ধান্ত নেন; ক্যারম বলের উপস্থিতি ব্যাটারদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করে এবং বোলিংয়ে বৈচিত্র্য আনে।
সাইম আইয়ুব, মূলত বাঁ–হাতি ব্যাটিংয়ের বিপরীতে কার্যকর স্পিনার হিসেবে পরিচিত। তিনি লেগ-ব্রেক ও গুগলিও আয়ত্ত করেছেন। পাকিস্তানের বোলিং কোচ অ্যাশলি নফক দলের স্পিনারদের কাছে বলেছেন, শুধুমাত্র দ্রুত শট খেলা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন দক্ষ কৌশল ও নিয়মিত অনুশীলন। সাইম নেট সেশনে প্রথমে টেনিস বল দিয়ে, পরে লাল বল দিয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। টি-টোয়েন্টি ম্যাচে পাওয়ারপ্লেতে তার ২৮ ইনিংসে ১১৮ ডট বল এবং ১৪ উইকেট রয়েছে, যেখানে ইকোনমি রেট ৮.৪১। এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে তিনি বোলিংয়ে ধার বাড়াচ্ছেন।
আবরার আহমেদের প্রধান শক্তি হলো লেগ স্পিন এবং ক্যারম বলের ব্যবহার। তিনি প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের মানসিক চাপে রাখার জন্য খ্যাত। যদিও সর্বশেষ এশিয়া কাপে ভারতের ব্যাটিং আক্রমণ আবরারকে বেশি সুবিধা দেয়নি, তবে মেন্ডিসের মতে, আবরার এখন ক্যারম বলের অপব্যবহার করেন না, বরং সাইড-স্পিনের ভ্যারিয়েশন যুক্ত করেছেন। এই কৌশলটি তাকে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে কার্যকর হতে সাহায্য করে, যেখানে কিছু ফ্লাইটেড বলের পর আচমকা আঘাত করা হয়।
পাকিস্তানের বোলিং বিকল্পে শুধু আবরার ও সাইম নয়, বরুণ চক্রবর্তীর মতো ভারতীয় স্পিনারদের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উসমান তারিককেও ‘তুরুপের তাস’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এছাড়া শাদাব খান ও মোহাম্মদ নেওয়াজসহ আরও একাধিক স্পিনার দলের পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। বিশ্লেষকদের মতে, প্রেমাদাসার শুষ্ক উইকেট ও স্কিডিং ক্যারম বলের কারণে এই স্পিনারদের কার্যকারিতা ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
এই ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ ঐতিহ্যগতভাবে পেস বোলিং বনাম ব্যাটিং দক্ষতার লড়াই হিসেবে পরিচিত হলেও, এই ম্যাচে স্পিনারদের কৌশল এবং ক্যারম বলের ব্যবহারের দিক থেকে নতুন মাত্রা যোগ হতে যাচ্ছে। ম্যাচে কে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ধারণ করতে পারে উইকেটের ধরন, ক্যারম বলের স্কিড এবং বোলিং ভ্যারিয়েশন। প্রেমাদাসার শুষ্ক পিচ ও স্পিনারদের দক্ষতা মিলিত হলে ম্যাচটি ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য কৌশলগত উত্তেজনার একটি মঞ্চ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।


