ক্রীড়া প্রতিবেদক
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৪-এর ইতিহাসে প্রথমবার অংশ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্র সুপার এইটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জয় নিশ্চিত করেছে। চেন্নাইয়ের এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে শুক্রবার পাকিস্তানের পর নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে রেকর্ডগড়া ব্যবধানে জয় অর্জন করে তারা। এই জয়ের ফলে মার্কিন দলের বিশ্বকাপের সেরা আটে ওঠার আশা টিকিয়ে রাখল।
ম্যাচে আগে ব্যাট করতে নেমে যুক্তরাষ্ট্র ২০ ওভারে ১৯৬ রানের সংগ্রহ করে। দলটির ব্যাটসম্যানরা স্থির ও ধারাবাহিক খেলায় বড় স্কোর গড়তে সক্ষম হন। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নেদারল্যান্ডস মাত্র ১৫.৫ ওভারে ১০৩ রান তুলতে সক্ষম হয় এবং সব উইকেট হারায়। আইসিসির সহযোগী দেশ হিসেবে মার্কিন দলটি ৯৩ রানের ব্যবধানে জয় অর্জন করে নতুন রেকর্ড গড়ল। এর আগে এই রেকর্ডটি নেপালের নামে ছিল, যারা ২০২৪ বিশ্বকাপে হংকংকে ৮০ রানের ব্যবধানে হারিয়েছিল।
ম্যাচটি জিতলেও মার্কিন দলের সুপার এইটে উত্তরণের পথে কিছু জটিলতা রয়ে গেছে। শেষ ম্যাচে নামিবিয়ার বিপক্ষে জয় ছাড়া তাদের ফলাফল নির্ভর করবে ভারত ও পাকিস্তানের পারফরম্যান্সের ওপর। উভয় দলই দুইটি করে জয় অর্জন করেছে, তাই মার্কিন দলের জন্য তাদের গ্রুপ থেকে পরের রাউন্ডে উঠা চ্যালেঞ্জিং হবে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রানের ব্যবধানে জয়ের রেকর্ড শ্রীলঙ্কার। প্রথম আসরেই তারা কেনিয়াকে ১৭২ রানের ব্যবধানে হারিয়েছে। এছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৩৪ রানে উগান্ডাকে, দক্ষিণ আফ্রিকা ১৩০ রানে স্কটল্যান্ডকে এবং আফগানিস্তান একই ব্যবধানে স্কটল্যান্ডকে হারানোর রেকর্ড রয়েছে। এই ইতিহাসগত পরিসংখ্যানের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ৯৩ রানের ব্যবধান রেকর্ডে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জন্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৪ একটি নজিরবিহীন অভিজ্ঞতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে পরাজয় সত্ত্বেও পাকিস্তান এবং নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে দলটি নিজের সম্ভাবনা প্রমাণ করেছে। গত আসরেও একই গ্রুপে যুক্তরাষ্ট্রের দল পাকিস্তানকে হারিয়ে সুপার এইটে উঠেছিল। এবারের আসরে একই ধারা অব্যাহত রাখতে হলে দলকে নির্ভর করতে হবে শেষ ম্যাচের জয় এবং গ্রুপের অন্যান্য ফলাফলের ওপর।
মাঠে এই ধরনের পারফরম্যান্স মার্কিন ক্রিকেটের উন্নতি ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে আরও দৃঢ় করবে। বিশেষ করে আইসিসির সহযোগী দেশ হিসেবে এত বড় ব্যবধানের জয় অর্জন দলটির ক্রিকেটে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করেছে। ভবিষ্যতে মার্কিন ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অংশগ্রহণ এবং সাফল্যের জন্য এই জয় একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হবে।
সাম্প্রতিক জয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেট দল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে সুপার এইটে ওঠার সম্ভাবনা ধরে রেখেছে। তবে গ্রুপের শক্তিশালী দল ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে তাদের প্রতিযোগিতা চলাকালীন সমন্বিত কৌশল ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্স বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ হবে।


