ইরানে সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সামরিক হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানে সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সামরিক হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্দেশ দিলে ইরানে টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে সামরিক হামলা চালাতে প্রস্তুত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। সম্ভাব্য এ হামলা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় দীর্ঘস্থায়ী ও ব্যাপক আকার ধারণ করতে পারে বলে দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স। বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছিলেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী সম্ভাব্য সংঘাতকে সামনে রেখে প্রস্তুতি জোরদার করছে। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অতীতে বিভিন্ন সময় সীমিত পরিসরে উত্তেজনা ও সংঘর্ষ দেখা গেলেও নতুন করে সংঘাত শুরু হলে তা পূর্ববর্তী পরিস্থিতির তুলনায় বেশি গুরুতর ও বিস্তৃত হতে পারে। বিশেষ করে সামরিক ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে ধারাবাহিক আঘাত হানার পরিকল্পনা নিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

এই পরিকল্পনা প্রকাশ্যে আসায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জটিল হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আগামী মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফ এবং জার্ড ক্রসনার–এর। আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করবে ওমান। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে, সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের খবর প্রকাশ পাওয়ায় আলোচনার পরিবেশে প্রভাব পড়তে পারে।

এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী হলেও তা বাস্তবায়ন সহজ হবে না। তার মতে, দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাস ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যু আলোচনাকে জটিল করে তুলছে।

ইরানের সম্ভাব্য শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন একটি সম্ভাব্য বিকল্প হতে পারে। তবে এ ধরনের পরিবর্তন ঘটলে দেশটির নেতৃত্ব কারা নেবে—এ প্রশ্নে তিনি নির্দিষ্ট কোনো নাম উল্লেখ না করে বলেন, “লোকজন আছে।” তার এ বক্তব্য আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদারের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করেছে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। বিশ্লেষকদের মতে, এ পদক্ষেপ ইরানের ওপর কৌশলগত চাপ বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য সামরিক বিকল্পকে সক্রিয় রাখার ইঙ্গিত বহন করে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ। পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার এবং নিষেধাজ্ঞা ইস্যুকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে বারবার বিরোধ দেখা দিয়েছে। অতীতে সামরিক উত্তেজনা সীমিত পর্যায়ে থাকলেও সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে তা বিস্তৃত সংঘাতে রূপ নিতে পারে—এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে তা শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে আসন্ন কূটনৈতিক বৈঠক পরিস্থিতি শান্ত রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ