গাইবান্ধা জেলা কারাগারে অসুস্থ হয়ে পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতির মৃত্যু

গাইবান্ধা জেলা কারাগারে অসুস্থ হয়ে পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতির মৃত্যু

 

সারাদেশ ডেস্ক

গাইবান্ধা জেলা কারাগারে বন্দি অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপাধ্যক্ষ শামীকুল ইসলাম লিপন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতাল এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ভোরে তার মৃত্যু হয়।

কারা কর্তৃপক্ষ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর ধরে তিনি গাইবান্ধা জেলা কারাগারে হাজতি হিসেবে ছিলেন। শনিবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে তিনি অসুস্থতা অনুভব করলে কারা কর্তৃপক্ষ তাকে তাৎক্ষণিকভাবে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাকে সেখানে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

গাইবান্ধা জেলা কারাগারের জেলার আতিকুর রহমান জানান, শামীকুল ইসলাম গাইবান্ধা সদর থানার জিআর ১৭৬/২৫ নম্বর মামলার হাজতি ছিলেন। এর আগে কারাবন্দি অবস্থায়ও তিনি চিকিৎসা নিয়েছেন। জেল সুপার আনোয়ার হোসেন বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। পূর্বে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি ভর্তি থেকেও চিকিৎসা নিয়েছেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার মগবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে পলাশবাড়ী থানার একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। কিছুদিন পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। তবে গত ৫ ফেব্রুয়ারি জেলগেট থেকে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়। সর্বশেষ তিনি গাইবান্ধা সদর থানার জিআর ১৭৬/২৫ মামলায় হাজতি হিসেবে জেলা কারাগারে ছিলেন।

শামীকুল ইসলাম লিপন দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৯৬ সালে তিনি পলাশবাড়ী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি হিসেবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালে তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ২০১৮ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তিনি পলাশবাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন এবং পরে উপাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

কারা হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে সাধারণত নিয়ম অনুযায়ী ময়নাতদন্তসহ প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তার মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, গত কয়েক মাসে গাইবান্ধা জেলা কারাগারে আরও কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মৃত্যু হয়েছে। ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর তারিক রিফাত (৫০) নামের এক আওয়ামী লীগ নেতা এবং একই বছরের ২২ সেপ্টেম্বর ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক মুন্না কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন। এসব ঘটনার পর কারাগারে বন্দিদের স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা সুবিধা ও নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

সর্বশেষ ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কারাবিধি অনুযায়ী অসুস্থ বন্দিদের দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয় এবং প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। শামীকুল ইসলাম লিপনের মৃত্যুর ঘটনায় আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

শীর্ষ সংবাদ সারাদেশ