ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন, বহুমাত্রিক নিরাপত্তায় বড় সংঘাত এড়ানো

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন, বহুমাত্রিক নিরাপত্তায় বড় সংঘাত এড়ানো

জাতীয় ডেস্ক

নানা আশঙ্কা ও জল্পনা-কল্পনার প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামগ্রিকভাবে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ভোটকেন্দ্রের ভেতর ও বাইরে একাধিক স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার ফলে বড় ধরনের সহিংসতা বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

নির্বাচনের আগে থেকেই সম্ভাব্য সংঘাত মোকাবিলায় সেনাবাহিনীকে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মোতায়েন করা হয়। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, কোস্ট গার্ড, পুলিশ এবং র‌্যাবের সদস্যরা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যেসব স্থানে উত্তেজনা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, সেখানে তাৎক্ষণিকভাবে বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ভোটের আগের রাত থেকেই দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রের বাইরে টহল জোরদার করা হয়। রাজধানীসহ কয়েকটি জেলায় বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনায় দ্রুত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। মুন্সীগঞ্জসহ কয়েকটি স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ও কেন্দ্র এলাকায় অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা হলে নিরাপত্তা বাহিনী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয় এবং জড়িত ব্যক্তিদের আটক করে। ফলে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়ানো সম্ভব হয়।

নির্বাচনী নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে কেন্দ্রভিত্তিক একাধিক নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়। গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় টহল ও তল্লাশি চৌকি স্থাপন করা হয়। নির্বাচন কমিশন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশে প্রায় ১০ লাখ সদস্যকে নিরাপত্তা দায়িত্বে নিয়োজিত করা হয়। এর মধ্যে সশস্ত্র বাহিনী ও বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন।

ভোটের দিন সকালে রাজধানীর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ কেন্দ্রে ভোট প্রদান শেষে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি নির্বাচনকে জাতীয় জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে উল্লেখ করেন এবং সুষ্ঠু ভোটগ্রহণের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

রাজধানীর বিএএফ শাহীন কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি ও প্রশাসনিক উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন। তিনি নির্বাচনী পরিবেশকে উৎসবমুখর হিসেবে বর্ণনা করেন এবং শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

একইভাবে রাজধানীর বারিধারা স্কলার্স ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট প্রদান শেষে নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, সকাল থেকেই ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে এবং ভোটাররা তাদের অধিকার প্রয়োগ করছেন। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার তথ্য পাওয়া গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

নির্বাচনের আগে সেনাবাহিনী প্রধান বিভিন্ন পদাতিক ডিভিশনে বৈঠক করে সদস্যদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন এবং ইউনিট পরিদর্শনের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভোটের দিন ছাড়াও আগে ও পরে সম্ভাব্য অস্থিতিশীলতা মোকাবিলায় বাহিনী মাঠে সক্রিয় ছিল।

বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে অতীতেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে এবারের নির্বাচনে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সমন্বিত বাহিনী মোতায়েনকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ভোটগ্রহণ শেষে কেন্দ্রভিত্তিক ফল সংগ্রহ ও পরিবহনেও নিরাপত্তা জোরদার রাখা হয়।

সার্বিকভাবে, নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য সহিংসতা প্রতিরোধ এবং ভোটারদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে গৃহীত নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রেখেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তবে বিচ্ছিন্ন ঘটনার তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ