ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর নতুন মন্ত্রিসভা গঠন প্রক্রিয়া শুরু

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর নতুন মন্ত্রিসভা গঠন প্রক্রিয়া শুরু

জাতীয় ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর বিএনপির মধ্যে সরকার গঠন ও সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা নিয়ে পরিকল্পনা এবং প্রস্তুতি ত্বরান্বিত হয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের গঠন প্রক্রিয়া প্রাথমিকভাবে প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, নতুন মন্ত্রীসভা সদস্যদের শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

দলীয় পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন মন্ত্রিসভা ছোট আকারের হলেও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক কাঠামোয় গড়ে তোলা হবে। প্রাথমিকভাবে ২০ থেকে ২২ জন সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা করার বিষয়টি ভাবনা হয়েছে। প্রার্থী বাছাইয়ে তিনটি মূল দিককে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে: স্বচ্ছ ভাবমূর্তি, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা। পাশাপাশি দুই থেকে তিনজন বিশেষজ্ঞকে টেকনোক্র্যাট কোটায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিও বিবেচনার মধ্যে রয়েছে।

দলের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় দেখা গেছে, মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির জন্য বিভিন্ন স্তরে যোগাযোগ এবং প্রার্থীদের তৎপরতা ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। জাতীয় স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্য মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন বলে আলোচনা চলছে।

সম্ভাব্য মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের তালিকায় প্রথম পর্যায়ে নাম উঠে এসেছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং মেজর অবসরপ্রাপ্ত হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

প্রত্যাশিত প্রতিমন্ত্রী বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের ক্ষেত্রে আরও কয়েকজনের নাম আলোচনা হচ্ছে, যার মধ্যে আছেন রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, আমান উল্লাহ আমান, খন্দকার মোক্তাদির, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, রেজা কিবরিয়া, এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, আফরোজা খানম রিতা, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, আবদুল আউয়াল মিন্টু, জয়নুল আবদিন ফারুক, মিজানুর রহমান মিনু, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, আ ন ম এহছানুল হক মিলন, জহির উদ্দিন স্বপন, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, রকিবুল ইসলাম বকুল শরীফুল আলম, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, নজরুল ইসলাম আজাদ, জি কে গউছ, ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, জাকারিয়া তাহের সুমন, অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, শহীদুল ইসলাম বাবুল, এ কে এম ফজলুল হক মিলন, অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, রফিকুল আলম মজনু, ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন, সাইদ আল নোমান, হাবিবুর রশিদ হাবিব, এস এম জিলানী, খন্দকার আবু আশফাক, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল, দীপেন দেওয়ান, নুরুল ইসলাম নয়ন ও এইচএম সাইফ আলী খান।

টেকনোক্র্যাট কোটায় অন্তর্ভুক্তির সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন নজরুল ইসলাম খান, বেগম সেলিমা রহমান, রুহুল কবির রিজভী, অধ্যাপক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, মাহদী আমিন এবং আমিনুল হক। জোটসঙ্গীদের মধ্য থেকেও কিছু নেতার নাম আলোচনা হচ্ছে; এর মধ্যে আছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ এবং জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার।

দলীয় নীতিনির্ধারকদের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন মন্ত্রিসভা কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক কাঠামোয় গড়ে তোলা হবে। গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব এবং রাষ্ট্রপতি পদ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি। রাজনৈতিক মহলে আলোচনায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম উল্লেখযোগ্য। সব প্রাসঙ্গিক বিবেচনা শেষে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ