আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী Marco Rubio। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়ে নবনির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘও নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের জন্য বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানিয়ে শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গঠনে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় মার্কো রুবিও বিএনপি ও তার নেতৃত্বকে অভিনন্দন জানান। তিনি লেখেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এবং দলটির প্রধান তারেক রহমানের পাশাপাশি বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন। আঞ্চলিক সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা জোরদারে নবনির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করতে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার এই বার্তায় দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির লক্ষ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্ব জোরদারের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। বাণিজ্য, উন্নয়ন সহযোগিতা, নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন ও মানবাধিকার ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ ও সহযোগিতা অব্যাহত আছে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি বাজার এবং উন্নয়ন সহযোগী দেশ। নবনির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজের আগ্রহ প্রকাশের মাধ্যমে ওয়াশিংটন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অব্যাহত ও সম্প্রসারিত করার অবস্থান স্পষ্ট করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এদিকে জাতিসংঘ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠানের জন্য বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়েছে। সংস্থাটি এক বার্তায় জানায়, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ার প্রচেষ্টায় বাংলাদেশকে সহায়তা অব্যাহত রাখা হবে। দেশ যখন রূপান্তরের পথে অগ্রসর হচ্ছে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই সংস্কার কার্যক্রম অনুসরণ করছে, তখন সেই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বলে জাতিসংঘ উল্লেখ করে।
জাতিসংঘ মহাসচিব António Guterres–এর মুখপাত্র Stéphane Dujarric গত শুক্রবার নিউইয়র্কে সংস্থার সদর দপ্তরে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বলেন, মহাসচিব সব রাজনৈতিক অংশীজনকে জাতীয় সংহতি জোরদার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে সংলাপ ও সহযোগিতার পরিবেশ বজায় রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহলের নজর ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর। নির্বাচন-পরবর্তী পর্যায়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের অবস্থান ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষত দক্ষিণ এশিয়ায় ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, বাণিজ্যিক সম্পর্ক ও নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়গুলোতে বাংলাদেশের ভূমিকা বিবেচনায় রেখে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করছে।
সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পর আন্তর্জাতিক অংশীদারদের ইতিবাচক বার্তা বাংলাদেশের কূটনৈতিক অঙ্গনে তাৎপর্যপূর্ণ। তবে সামনের দিনগুলোতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, আইনের শাসন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপরই আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পরিধি নির্ভর করবে।


