রাজনীতি ডেস্ক
খুলনা নগরীর লোয়ার যশোর রোডের শঙ্খ মার্কেট এলাকায় অবস্থিত আওয়ামী লীগের জেলা ও মহানগর কার্যালয়ে রবিবার বিকালে নেতাকর্মীরা পতাকা উত্তোলন ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেছেন। খুলনা সদর থানার ওসি কবীর হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আশপাশের ব্যবসায়ীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, নেতাকর্মীরা কার্যালয়ের নীচতলার কলাপসিবল গেইটের তালা খুলে দোতলায় যান। সেখানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবিতে ফুলের মালা অর্পণ করা হয়। এ সময় তারা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। এই ঘটনার ভিডিও মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীর হোসেন, যিনি নিজেকে ২৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে পরিচয় দেন। জাহাঙ্গীর বলেন, “রাজনীতি করার অধিকার সবার আছে। আমরা নতুন সরকারকে বলতে চাই, আমরা সুষ্ঠু ধারার রাজনীতি করতে চাই। আশা করি, আমাদের রাজনীতি করার অধিকার ফিরে পাব।”
খুলনা সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, “অবৈধ সরকারের সময়ে আমাদের কার্যক্রমে নানা সীমাবদ্ধতা ছিল। এখন নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর আমরা মনে করি, রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পেয়েছি। সেই হিসেবেই আমাদের নেতা-কর্মীরা কার্যালয়ে গেছেন।” তিনি আরও বলেন, “কার্যালয়ে প্রবেশে আগে যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, সেটি এখন আর প্রযোজ্য নয়। নির্বাচিত সরকার আমাদের রাজনীতি করার সুযোগ দেবে।”
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর খুলনা মহানগর ও জেলার বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। বিশেষ করে ৪ আগস্ট মহানগর ও জেলা কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল। এর পর থেকে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে প্রবেশ বিরত থাকলেও রবিবারের ঘটনায় পুনরায় কার্যক্রম চালানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা কার্যালয় ত্যাগ করার পর সন্ধ্যায় অননুমোদিত কিছু ব্যক্তি কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। তারা কাঠের দরজা এবং বিভিন্ন কাগজপত্রে আগুন ধরায়। তবে তারা তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেননি।
খুলনা সদর থানার ওসি কবীর হোসেন জানান, “ঘটনাটি আমরা অবগত হয়েছি। দুপুরে কিছু লোক কার্যালয়ের তালা খুলে শীর্ষ নেতাদের ছবি টানেন এবং পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। বিকালে অননুমোদিত কয়েকজন এসে তা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। আমরা আশপাশের সিসি ক্যামেরার ভিডিও সংগ্রহ করেছি এবং এ ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পুলিশের এ পদক্ষেপের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসন নিশ্চিত করতে চাইছে, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক কার্যালয়ে যে কোনো ধরনের অননুমোদিত প্রবেশ ও অগ্নিসংযোগ রোধ করা যায়। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তকরণ ও দায়মুক্তিকরণের জন্য তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


