বাংলাদেশ ডেস্ক
চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম তার পদত্যাগের বিষয়ে ছড়িয়ে পড়া সংবাদকে অসত্য বলে জানিয়েছেন। রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমি পদত্যাগ করিনি।” বিকেল থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে তার পদত্যাগের খবর প্রচারিত হলেও তা ভিত্তিহীন বলে নিশ্চিত করেন তিনি।
রবিবার বিকেল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও একাধিক অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আইজিপির পদত্যাগের সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দাবি করা হয়, তিনি ইতোমধ্যে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তবে সন্ধ্যায় সরাসরি প্রতিক্রিয়ায় আইজিপি ওই দাবি নাকচ করে দেন। তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে পদত্যাগসংক্রান্ত জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটে।
বাহারুল আলমকে ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর চুক্তিভিত্তিকভাবে পুলিশ মহাপরিদর্শক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। অন্তর্বর্তী সরকার তাকে দুই বছরের জন্য এ পদে নিয়োগ প্রদান করে। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২০ নভেম্বর তার দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি পুলিশ বাহিনীর প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।
এর আগে ২০২০ সালে বাহারুল আলম পুলিশ বিভাগ থেকে অবসরে যান। অবসরের চার বছর পর তাকে চুক্তিভিত্তিকভাবে দেশের সর্বোচ্চ পুলিশ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণত নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দায়িত্ব অর্পণ করা হয় এবং তা মেয়াদ পূর্তির আগে বাতিল বা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন হয়।
আইজিপির পদ দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ব্যবস্থার সর্বোচ্চ প্রশাসনিক দায়িত্ব। এমন পদে থাকা কর্মকর্তার পদত্যাগ বা দায়িত্বে পরিবর্তন জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। ফলে এ ধরনের খবর প্রচারিত হলে তা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পদত্যাগের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বিষয়ে অনির্ভরযোগ্য তথ্য প্রচারিত হলে তা সরকারি কার্যক্রম ও জনআস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সরাসরি বক্তব্য বিভ্রান্তি নিরসনে ভূমিকা রাখে।
বর্তমানে বাহারুল আলম তার দায়িত্বে বহাল রয়েছেন এবং স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। তার চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বহাল রয়েছে এবং এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে ভিন্ন কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।


