একুশে পদক ২০২৬–এ নৃত্যকলার মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবি বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পীদের

একুশে পদক ২০২৬–এ নৃত্যকলার মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবি বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পীদের

রাজনীতি ডেস্ক

একুশে পদক ২০২৬–এ নৃত্যকলা বিষয়ে ঘোষিত মনোনয়ন পুনর্মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পীরা। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি উত্থাপন করেন। নৃত্যকলাকে একুশে পদকের অন্তর্ভুক্ত করার সরকারি সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও চলতি বছরের মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ ও প্রশ্নের কথা তুলে ধরেন বক্তারা।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, একুশে পদক দেশের অন্যতম রাষ্ট্রীয় বেসামরিক সম্মাননা, যা ভাষা আন্দোলনের চেতনা, সাংস্কৃতিক বিকাশ এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রদান করা হয়। দীর্ঘ সাধনা, পেশাগত সাফল্য, গবেষণা, সৃজনশীল অবদান এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রভাবের ভিত্তিতেই সাধারণত এ সম্মাননা দেওয়া হয়ে থাকে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, নৃত্যকলার মতো সাধনাভিত্তিক শিল্পক্ষেত্রে মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

বক্তারা উল্লেখ করেন, ঘোষিত মনোনীত ব্যক্তির বয়স, অভিজ্ঞতার ব্যাপ্তি এবং দেশের নৃত্যচর্চা ও নৃত্যশিক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি অবদান নিয়ে নৃত্যাঙ্গনের একটি অংশের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, দেশে বহু প্রবীণ ও স্বীকৃত নৃত্যশিল্পী রয়েছেন, যারা কয়েক দশক ধরে নৃত্যচর্চা, প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন। মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় এসব অবদান যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে কি না, তা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে তারা মত প্রকাশ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কয়েকটি নির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— একুশে পদক প্রদানের নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না তা যাচাই করা; ২০২৬ সালে নৃত্যকলায় ঘোষিত মনোনয়ন পুনর্বিবেচনা; প্রবীণ ও স্বীকৃত নৃত্যব্যক্তিত্বদের মতামত গ্রহণ; এবং একটি স্বচ্ছ, প্রাতিষ্ঠানিক ও মানদণ্ডভিত্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতি নিশ্চিত করা। বক্তারা বলেন, মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে যদি কোনো বিভ্রান্তি বা প্রশ্ন থেকে থাকে, তা নিরসনে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

তারা আরও বলেন, এ উদ্যোগ কোনো ব্যক্তিবিশেষকে লক্ষ্য করে নয়; বরং নৃত্যকলার সামগ্রিক মর্যাদা রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি গ্রহণযোগ্য মানদণ্ড প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। নৃত্যশিল্পীরা মনে করেন, রাষ্ট্রীয় সম্মাননার ক্ষেত্রে পেশাগত স্বীকৃতি ও দীর্ঘমেয়াদি অবদান মূল্যায়নের সুস্পষ্ট কাঠামো থাকলে সংশ্লিষ্ট অঙ্গনে আস্থা বৃদ্ধি পাবে।

সংবাদ সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন প্রজন্মের প্রায় শতাধিক নৃত্যশিল্পী অংশ নেন। তাদের মধ্যে একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী ও জ্যেষ্ঠ গুরুজনরাও উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় অংশ নিয়ে কয়েকজন বক্তা নৃত্যকলার প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশ, আর্কাইভ সংরক্ষণ, গবেষণা কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক বিনিময়ে নৃত্যশিল্পীদের ভূমিকার বিষয়েও আলোকপাত করেন। তারা বলেন, নৃত্যকলাকে একুশে পদকের আওতায় আনা একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ; তবে এই স্বীকৃতির ক্ষেত্রে মানসম্মত ও গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

একুশে পদক প্রতি বছর ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত ফেব্রুয়ারি মাসে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রদান করা হয়। সংস্কৃতি অঙ্গনে এ পুরস্কারকে একটি মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে যে কোনো প্রশ্ন সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের শিল্পী ও পেশাজীবীদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দেয়।

সংবাদ সম্মেলন শেষে নৃত্যশিল্পীরা নৃত্যকলার ন্যায্য স্বীকৃতি ও মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের দাবিগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনার আহ্বান জানান।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ