রাজনীতি ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটের হার দাঁড়িয়েছে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিবন্ধিত ৫০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ১০টি দল শূন্য দশমিক শূন্য শতাংশ ভোট পেয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) কমিশনের জনসংযোগ শাখা থেকে পাঠানো ভোটের শতকরা হিসাব বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা যায়।
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শূন্য শতাংশ ভোট পাওয়া দলগুলো হলো— বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টি (বিইপি), ইসলামী ঐক্য জোট, গণতন্ত্রী পার্টি, গণফ্রন্ট, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), জাতীয় গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম), বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-বিএনএল।
এছাড়া আরও কয়েকটি দল অত্যন্ত কম ভোট পেয়েছে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আমজনতার দল, গণফোরাম, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি), নাগরিক ঐক্য, বাংলাদেশ কংগ্রেস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ), বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি), বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, বাংলাদেশ লেবার পার্টি এবং বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (মুক্তিজোট) প্রত্যেকে শূন্য দশমিক ০১ শতাংশ ভোট পেয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, শূন্য দশমিক শূন্য শতাংশ ভোট অর্থ হলো সংশ্লিষ্ট দলগুলোর মোট প্রাপ্ত ভোটের হার এতই কম যে শতকরা হিসাবে তা শূন্য দশমিক শূন্য হিসেবে প্রতিফলিত হয়েছে। সাধারণত কোনো দলের প্রাপ্ত ভোট জাতীয় পর্যায়ে মোট প্রদত্ত ভোটের তুলনায় নগণ্য হলে এমন ফলাফল দেখা যায়।
এবারের নির্বাচনে মোট ৫০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। পাশাপাশি ২৭৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সারাদেশে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় এবং ভোট শেষে ধাপে ধাপে ফলাফল সংগ্রহ করে কমিশন চূড়ান্ত ভোটের হার ও দলভিত্তিক প্রাপ্ত ভোটের শতকরা হিসাব প্রকাশ করে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিবন্ধিত দলের সংখ্যা বেশি হলেও কার্যকর সাংগঠনিক উপস্থিতি, প্রার্থী মনোনয়ন, নির্বাচনী প্রচার এবং মাঠপর্যায়ের সমর্থন না থাকলে জাতীয় পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য ভোট পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে বৃহৎ দলগুলোর প্রাধান্যপূর্ণ প্রতিযোগিতার মধ্যে ছোট দলগুলোর পক্ষে ভোটের অংশীদারিত্ব ধরে রাখা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
বাংলাদেশের নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়, যার মধ্যে রয়েছে সংগঠন কাঠামো, নির্দিষ্ট সংখ্যক জেলা ও উপজেলায় কমিটি এবং নির্ধারিত পরিমাণ ভোট অর্জনের সক্ষমতা। ধারাবাহিকভাবে খুব কম ভোটপ্রাপ্ত দলগুলোর ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে নিবন্ধন সংক্রান্ত বিষয়গুলো আলোচনায় আসতে পারে বলে নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট মহলে ধারণা রয়েছে, যদিও এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
সার্বিকভাবে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, অধিকাংশ ভোট প্রধান কয়েকটি দলের মধ্যে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। এর বিপরীতে একাধিক নিবন্ধিত দল জাতীয় ভোটের হিসাবে শূন্য বা প্রায় শূন্য শতাংশে সীমাবদ্ধ রয়েছে, যা দেশের বহুদলীয় রাজনৈতিক কাঠামোর বাস্তব চিত্র ও নির্বাচনী প্রতিযোগিতার বৈষম্যকে তুলে ধরে।


