জাতীয় ডেস্ক
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালানন্দ শর্মা বাংলাদেশে এসেছেন নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় তিনি ঢাকায় পৌঁছান। এই তথ্য জানানো হয়েছে ঢাকায় অবস্থিত নেপাল দূতাবাসের পক্ষ থেকে।
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। নির্বাচনের ফলাফলে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন। তার নেতৃত্বে গঠিত নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপতি শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এবং নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ করাবেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানান, শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের পূর্বাহ্ণে, অর্থাৎ একই দিন সকাল ১০টায়, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরাও (এমপি) শপথ নেবেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার তাদেরকে শপথ পড়াবেন।
নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য বিদেশি অতিথিদের আগমন উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক গুরুত্ব বহন করছে। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের সমৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক যোগাযোগকে আরও সুদৃঢ় করার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে নতুন সরকারের কার্যক্রম দ্রুত এবং স্থিতিশীলভাবে পরিচালিত হতে পারবে। তবে দেশটির রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধী দল ও নাগরিক সমাজের পর্যবেক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের প্রক্রিয়া সাধারণত সংবিধান অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হয় এবং এটি সরকারের কার্যনির্বাহী ক্ষমতার প্রারম্ভিক সূচনা হিসেবে গণ্য হয়। শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান শেষে সরকার নতুন নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে উদ্যোগ গ্রহণ করবে, যা দেশের প্রশাসনিক কাঠামো এবং অর্থনৈতিক নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
শপথগ্রহণ উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। জাতীয় সংসদ এলাকার আশেপাশে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে বিদেশি দূতাবাসগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর কেবলমাত্র শপথ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, অর্থনীতি, বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বিষয়ক আলোচনায়ও অংশগ্রহণ করার সম্ভাবনা রাখছেন। এই সফর দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগকে শক্তিশালী করতে অবদান রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
শপথগ্রহণের পর নতুন সরকার সম্ভাব্য নীতি নির্ধারণ এবং প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার প্রক্রিয়া শুরু করবে। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়নও সরকারের প্রাথমিক অগ্রাধিকার হবে।


