রমজানের ছুটি নিয়ে আদালতের আদেশ স্থগিত, আগের সিদ্ধান্ত বহাল

রমজানের ছুটি নিয়ে আদালতের আদেশ স্থগিত, আগের সিদ্ধান্ত বহাল

 

শিক্ষা ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পূজা উপলক্ষে টানা পাঁচ দিনের ছুটি শেষে সোমবার থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যথারীতি পাঠদান শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই রমজান মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি নিয়ে জারি হওয়া হাইকোর্টের আদেশ চেম্বার আদালতে স্থগিত হওয়ায় পূর্বনির্ধারিত ছুটির সূচিই বহাল থাকছে। ফলে মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর রমজানকালীন কার্যক্রম আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলবে।

চলতি শিক্ষাবর্ষে রমজান উপলক্ষে মাদরাসাগুলোয় ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ছুটি শুরু হয়েছে। অন্যদিকে মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ১৫ রমজান, অর্থাৎ ৭ মার্চ পর্যন্ত নিয়মিত ক্লাস চালু রাখার সিদ্ধান্ত ছিল। শিক্ষা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বার্ষিক ছুটির তালিকায় এ সূচি অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

তবে এ সিদ্ধান্তকে বৈষম্যমূলক উল্লেখ করে রমজানের শুরু থেকেই মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ছুটি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে জনস্বার্থে রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইলিয়াছ আলী মণ্ডল। রোববার বিচারপতি ফাহমিদা ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রিটের শুনানি শেষে সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় রমজান মাসে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। ওই আদেশ অনুযায়ী ৮ মার্চের পরিবর্তে ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকেই এসব বিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার কথা ছিল।

হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ চেম্বার জজ আদালতে আবেদন করলে সোমবার তা স্থগিত করা হয়। ফলে মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছুটি সংক্রান্ত আগের সিদ্ধান্তই কার্যকর থাকবে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, চেম্বার আদালতের স্থগিতাদেশের ফলে মূল রিটের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পূর্বঘোষিত ছুটির সূচি অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হবে।

এদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিষয়ে আদালতের আদেশে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা নেই। ফলে রমজান মাসে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম কীভাবে চলবে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, বিষয়টি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। নতুন সরকারের শিক্ষামন্ত্রীর দিকনির্দেশনার ভিত্তিতে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, তারা বার্ষিক ছুটির একটি প্রস্তাবিত তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী ৮ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত রমজান, ঈদুল ফিতর ও অন্যান্য ছুটি মিলিয়ে মোট ১৯ দিন (শুক্র ও শনিবারসহ) বিদ্যালয় বন্ধ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এ প্রস্তাব অনুমোদিত হলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছুটির সময়সূচি চূড়ান্ত হবে।

অন্যদিকে সরকারি কলেজগুলোতে রোজার ছুটি সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন গত বছরের ডিসেম্বরে জারি হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি কলেজ ২০২৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। কলেজ পর্যায়ে এ সূচি অপরিবর্তিত রয়েছে।

ঢাকার কয়েকটি ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়ের প্রকাশিত ছুটির ক্যালেন্ডার পর্যালোচনায় দেখা যায়, বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান রমজানের মাঝামাঝি পর্যন্ত নিয়মিত ক্লাস চালু রাখার পরিকল্পনা নিয়েছে। তবে পৃথক পরিচালনা নীতিমালার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের ছুটির সূচিতে ভিন্নতা রয়েছে।

শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, রমজান মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি নির্ধারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ধারাবাহিকতা, পাবলিক পরীক্ষা, প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং ধর্মীয় অনুশাসনের বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়। আদালতের নির্দেশ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের সমন্বয়ের মাধ্যমে চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।

বর্তমানে চেম্বার আদালতের স্থগিতাদেশের ফলে মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী পাঠদান অব্যাহত রয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে শিক্ষা খাতের সংশ্লিষ্টরা।

শিক্ষা শীর্ষ সংবাদ