আইন আদালত ডেস্ক
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ সংক্রান্ত গণভোটের বৈধতা নিয়ে এবং গণভোটের ফলাফল স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী আজ মঙ্গলবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদনকারীর পক্ষে রিটটি দাখিল করেন।
আবেদনকারী আইনজীবী এ বি এম আতাউল মজিদ তৌহিদ রিট দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘মূলত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা এবং গণভোটের ফলাফল ঘোষণা করে ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত গেজেট স্থগিত চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রিটের মাধ্যমে ওই গেজেট বাতিলের আবেদন করা হয়েছে।’
রিটটি বিচারপতি ফাতেমা নজীবের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চে শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবেদনকারী আইনজীবী জানায়, আগামী সপ্তাহে রিটের ওপর শুনানি হতে পারে।
গণভোটটি ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়, যা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের জন্য অনুষ্ঠিত হয়েছিল। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গণভোটে মোট ভোটারদের মধ্যে ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬০ জন ‘হ্যাঁ’ ভোট দেন। অন্যদিকে ‘না’ ভোট দেন ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬ জন। ফলাফলে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা ‘না’ ভোটের দ্বিগুণের বেশি।
রাষ্ট্রীয়ভাবে গণভোটের ফলাফল ১৩ ফেব্রুয়ারি সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়। রিটের মাধ্যমে এই ফলাফল স্থগিত বা বাতিলের দাবি জানানো হওয়ায় সংশ্লিষ্ট বিধান ও প্রক্রিয়ার আইনগত বৈধতা নিয়েও আদালতে বিস্তারিত বিচার হতে পারে।
বিগত কয়েক বছর ধরে সংবিধান-সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা বাস্তবায়নের জন্য দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে। বিশেষ করে জাতীয় সনদ সংশোধনী সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে গণভোটের ফলাফল রাজনৈতিক, প্রশাসনিক এবং আইনি প্রভাব ফেলতে পারে। হাইকোর্টে রিটের শুনানি এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং আইনগত যথার্থতা নিশ্চিত করার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হবে।
আইনজীবী এ বি এম আতাউল মজিদ তৌহিদ বলেন, ‘আমরা চাই বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হোক যে, গণভোট সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং সংবিধানসম্মতভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। রিটের শুনানির মাধ্যমে এই বিষয়টি যাচাই করা হবে।’
এই রিটের সিদ্ধান্ত দেশব্যাপী রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক পর্যায়ে প্রভাব ফেলতে পারে। হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকারি গেজেটের ফলাফল স্থায়ী হবে কি না, তা আগামী আদালতের শুনানি ও রায়ে নির্ধারিত হবে।


