গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ১৪ জন হাসপাতালে ভর্তি, মৃত্যু নেই

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ১৪ জন হাসপাতালে ভর্তি, মৃত্যু নেই

 

স্বাস্থ্য ডেস্ক

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও ১৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে এ সময়ে ডেঙ্গুজনিত কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৯ জন, খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৪ জন এবং রাজশাহী বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১ জন রয়েছেন। চলতি সময়ে রাজধানীসহ অন্যান্য সিটি করপোরেশন এলাকায় নতুন ভর্তি রোগীর তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

একই সময়ে ১৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে মোট ১ হাজার ২৬৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ১ হাজার ৩৬১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ৬৪ দশমিক ১ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৫ দশমিক ৯ শতাংশ নারী। এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ডেঙ্গু পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা নিয়মিত সতর্কতার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। ডেঙ্গু এডিস মশাবাহিত ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশার প্রজনন ঘটে। বর্ষা মৌসুম ও তার পরবর্তী সময়ে রোগটির সংক্রমণ বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মৌসুমের বাইরেও সংক্রমণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের একটি বড় অংশ সিটি করপোরেশনের বাইরে বিভিন্ন জেলায় শনাক্ত হচ্ছেন। ফলে নগরকেন্দ্রিক ধারণার বাইরে গিয়ে সারাদেশব্যাপী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ মশা নিধন কার্যক্রম, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

গত বছরের পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করলে সংক্রমণ ও মৃত্যুর পরিসংখ্যানে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যায়। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন এবং এ রোগে ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়। সে বছরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে চলতি বছর আগাম প্রস্তুতি ও সমন্বিত কার্যক্রম জোরদার করার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তিগত ও সামাজিক উদ্যোগ সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বাসাবাড়ি, ছাদ, আঙিনা ও আশপাশের এলাকায় জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, পানির ট্যাংক ও পাত্র ঢেকে রাখা এবং মশারি বা মশা নিরোধক ব্যবহার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীর ও জয়েন্টে ব্যথা কিংবা ত্বকে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রিত থাকলেও সংক্রমণ প্রতিরোধে সতর্কতা বজায় রাখা এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণকে গুরুত্ব দিতে বলছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

শীর্ষ সংবাদ স্বাস্থ্য