জাতীয় ডেস্ক
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা সোয়া ১১টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদীয় দলের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তাকে সর্বসম্মতভাবে এই পদে নির্বাচিত করা হয়। এর আগে একই দিন বেলা পৌনে ১১টার দিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন।
জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত শপথ অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত সদস্যরা সংবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার করেন। শপথ গ্রহণ শেষে তারা শপথপত্রে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে দেশি ও বিদেশি অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। শপথ শুরুর আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। তিনি সংবিধান সংস্কার পরিষদ সংক্রান্ত দলীয় অবস্থান তুলে ধরেন এবং সংসদে কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
শপথ গ্রহণের পরপরই বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে তারেক রহমানকে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করা হয়। সংসদীয় দলের নেতা হিসেবে তিনি সংসদে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা, কৌশল নির্ধারণ এবং সরকারের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তে নেতৃত্ব দেবেন। সংসদীয় গণতন্ত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা সাধারণত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। একই অনুষ্ঠানে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরাও শপথ গ্রহণ করবেন। রাষ্ট্রপতির কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শপথ অনুষ্ঠানের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
সন্ধ্যায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নতুন মন্ত্রীদের দফতর বণ্টন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। দফতর বণ্টনের মাধ্যমে নতুন সরকারের প্রশাসনিক কাঠামো আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে। সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক শপথের পরবর্তী সময়ে অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে নতুন সরকারের যাত্রা শুরু হচ্ছে এই শপথের মাধ্যমে। নির্বাচনের পর সরকার গঠনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রথমে সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ, পরে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন এবং প্রধানমন্ত্রীর শপথ সম্পন্ন করা হয়। এরপর রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে মন্ত্রিসভা গঠন ও দফতর বণ্টন করা হয়।
নতুন সরকারের সামনে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রশাসনিক সংস্কারসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ রয়েছে। একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কারসহ রাজনৈতিক সংস্কারের বিষয়গুলোও আলোচনায় রয়েছে। সংসদীয় দলের নেতা হিসেবে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দল কীভাবে এসব বিষয় মোকাবিলা করবে, তা রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
শপথ ও সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে মন্ত্রিসভার দায়িত্ব বণ্টন ও নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সরকারের কর্মপরিকল্পনা স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।


