ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সহিংসতামুক্ত: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সহিংসতামুক্ত: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

বাংলাদেশ ডেস্ক

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, ভোটগ্রহণের দিন সারাদেশে উল্লেখযোগ্য কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি এবং প্রাণহানিরও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। বিদায়ী সংবর্ধনা শেষে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং গণমাধ্যমের ভূমিকা সম্পর্কে বক্তব্য দেন।

তিনি জানান, নির্বাচন উপলক্ষে দেশের সব জেলা, মহানগর ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। পুলিশ, র‍্যাব, আনসার ও বিজিবিসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনী সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করেছে। গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয় এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব পদক্ষেপের ফলে নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, নির্বাচনের সময় কোনো অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পূর্বপ্রস্তুতির অংশ হিসেবে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি বজায় রাখে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো প্রতিরোধেও নজরদারি কার্যক্রম জোরদার করা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন সাধারণত রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং কখনো কখনো উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে থাকে। অতীতের বিভিন্ন নির্বাচনে সহিংসতা ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। সে প্রেক্ষাপটে এবারের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে নানা আশঙ্কা ছিল। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রশাসনিক সমন্বয় ও নিরাপত্তা পরিকল্পনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও বক্তব্য রাখেন তিনি। তার মতে, বিচার বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ ও আইনসভা—এই তিন সাংবিধানিক স্তম্ভের পাশাপাশি গণমাধ্যমও গণতান্ত্রিক কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রাষ্ট্র ও সরকারের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের ভূমিকা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ভবিষ্যতেও গণমাধ্যম দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি চ্যালেঞ্জপূর্ণ অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং জনআস্থার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানান। তার দাবি, বর্তমান পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল এবং পরবর্তী দায়িত্বপ্রাপ্তরা এ অগ্রগতিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হবেন।

নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে। ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণা ও সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা প্রশাসনের জন্য একটি বড় দায়িত্ব। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এবং সহিংসতামুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়টি আগামী দিনগুলোতে রাজনৈতিক ও নীতিনির্ধারণী আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। নির্বাচন প্রক্রিয়া, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং গণতান্ত্রিক চর্চা—এসব বিষয়ে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন পক্ষের মূল্যায়ন ভবিষ্যতে প্রকাশিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ