নতুন সংসদ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হবে: মির্জা ফখরুল

নতুন সংসদ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হবে: মির্জা ফখরুল

জাতীয় ডেস্ক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নবগঠিত জাতীয় সংসদই দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করবে। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

শপথ অনুষ্ঠানের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় যে নতুন সংসদ গঠিত হয়েছে, সেটিকে কার্যকর ও সক্রিয় প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে তাঁর দল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ দেশের নীতিনির্ধারণ, আইন প্রণয়ন এবং অর্থনৈতিক কর্মকৌশল নির্ধারণে প্রধান ভূমিকা পালন করবে।

তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশে যে নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা গণতান্ত্রিক কাঠামোকে শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি করেছে। এ প্রেক্ষাপটে জাতীয় সংসদকে কেন্দ্র করেই রাজনৈতিক সংলাপ, নীতিনির্ধারণ ও উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে সংসদে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, দলটি জাতিকে একটি উন্নয়নমুখী লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নিতে কাজ করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন সংসদ দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে নেতৃত্ব দেবে এবং দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি পূর্ববর্তী নির্বাচনগুলোতে সংসদ অকার্যকর থাকার অভিযোগের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমান সংসদকে সক্রিয় ও কার্যকর করতে দলীয় নেতৃত্বের অধীনে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হবে। তাঁর দাবি, ভবিষ্যতে সংসদ দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার ও বিরোধী দলের পারস্পরিক সংলাপ এবং সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, বিরোধী দলের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও গঠনমূলক পরিবেশে কাজ করার প্রত্যাশা রয়েছে তাদের। দেশের স্বার্থে এবং গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বাংলাদেশের সংসদীয় ব্যবস্থায় জাতীয় সংসদ আইন প্রণয়ন, সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং রাষ্ট্রীয় নীতিমালা অনুমোদনের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করে থাকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদের কার্যকারিতা ও সক্রিয়তা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর শক্তিমত্তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ প্রেক্ষাপটে নবনির্বাচিত সংসদের কার্যক্রম, দলীয় অবস্থান ও বিরোধী দলের সঙ্গে সম্পর্ক ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, একটি কার্যকর ও প্রাণবন্ত সংসদ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণই হবে তাদের মূল লক্ষ্য। তিনি দেশের সার্বিক উন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক চর্চা জোরদারে সব পক্ষের সহযোগিতার আহ্বান জানান।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ