নুরুল হক নুরকে শ্রম ও প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথের আমন্ত্রণ

নুরুল হক নুরকে শ্রম ও প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথের আমন্ত্রণ

রাজনীতি ডেস্ক

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও পটুয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল হক নুরকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আজ বিকেলে তাঁর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তাঁকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নুরুল হক নুরকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে শপথের আনুষ্ঠানিক সময়সূচি ও মন্ত্রিপরিষদের সম্প্রসারণ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য এখনো সরকারি ঘোষণায় প্রকাশ করা হয়নি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নুরুল হক নুর পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা ও দশমিনা) আসন থেকে ট্রাক প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এই আসনটি উপকূলীয় অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় এলাকা, যেখানে প্রবাসী আয়, মৎস্যসম্পদ, কৃষি এবং জলবায়ু ঝুঁকিসহ বিভিন্ন ইস্যু দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দুটি—শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান—দেশের শ্রমবাজার, বিদেশগামী কর্মীদের অধিকার সংরক্ষণ এবং বৈদেশিক রেমিট্যান্স ব্যবস্থাপনার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট। ফলে এসব দপ্তরে নতুন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নে প্রভাব ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

নুরুল হক নুর জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিতি পান ২০১৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের মাধ্যমে। সে নির্বাচনে তিনি সহসভাপতি (ভিপি) পদে নির্বাচিত হন। ছাত্ররাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর উত্থান তরুণ ভোটারদের মধ্যে একটি আলোচ্য বিষয় হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে তিনি গণঅধিকার পরিষদের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং দলীয় কার্যক্রমের মাধ্যমে বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে অবস্থান তুলে ধরেন।

বর্তমান সংসদে গণঅধিকার পরিষদের প্রতিনিধিত্ব এবং একজন দলীয় সভাপতির মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা। বিশেষ করে শ্রমবাজার সংস্কার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রবাসী কর্মীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানের নতুন বাজার অনুসন্ধান—এসব ক্ষেত্রে কার্যকর নীতিগত উদ্যোগ গ্রহণের প্রত্যাশা রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মী মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও অন্যান্য দেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান। তাঁদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস। ফলে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত।

অন্যদিকে, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় দেশের শিল্পখাত, তৈরি পোশাক শিল্প, কারখানা নিরাপত্তা, শ্রমিক অধিকার ও ন্যূনতম মজুরি কাঠামোর মতো বিষয় তদারক করে থাকে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখা এবং শ্রমমান সংক্রান্ত বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুসরণ করাও এই মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত।

মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য সম্প্রসারণ এবং নতুন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে সরকারের নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমে কী ধরনের পরিবর্তন আসে, তা পর্যবেক্ষণে থাকবে রাজনৈতিক মহল ও সংশ্লিষ্ট খাতের অংশীজনেরা। আনুষ্ঠানিক শপথগ্রহণের পর দায়িত্ব বণ্টন ও কার্যপরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যেতে পারে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ