আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান তাদের দীর্ঘদিনের পারমাণবিক বিরোধ সমাধানের লক্ষ্যে মঙ্গলবার জেনেভায় পরোক্ষ বৈঠকে বসেছে। ওমানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় মার্কিন পক্ষে অংশ নিয়েছেন দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার, এবং ইরানের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তবে অঞ্চলে মার্কিন সামরিক শক্তি জড়ো হওয়ায় আলোচনার সমঝোতার বিষয়ে তাত্ক্ষণিক কোনো নিশ্চিত ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
ওদিকে, ইরান সোমবার হরমুজ প্রণালিতে সামরিক মহড়া শুরু করেছে। এটি উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর তেল রপ্তানির একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। পারস্পরিক বিরোধের অবসানে কূটনৈতিক সমাধানের জন্য এই দেশগুলো বারবার আহ্বান জানাচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, তিনি জেনেভার আলোচনায় পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকবেন এবং তার বিশ্বাস, তেহরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি উল্লেখ করেন, “ইরান চুক্তি না করার পরিণতি চাইবে না। পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংসের বিকল্প হিসেবে বি-২ বোমারু বিমান পাঠানোর পরিবর্তে আমরা চুক্তি করতে পারতাম।”
এবারের বৈঠক মূলত গত ৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া আলোচনার ধারাবাহিকতা। যুক্তরাষ্ট্র এবং তার ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক কর্মকাণ্ডকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে, তেহরান দাবি করছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজনের তুলনায় ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এমন পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছে যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে।
গত বছরের জুনে আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার সময় ইসরায়েল ও মার্কিন বোমারু বিমান ইরানের কিছু পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এরপর থেকে তেহরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিত করেছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির তেল আয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয় এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে দেশজুড়ে বিক্ষোভ দেখা দেয়। এই বিক্ষোভ দমন করা হয়, যার ফলে ইসলামিক শাসকগোষ্ঠীর অবস্থান কিছুটা দুর্বল হয়।
এবারের বৈঠকের আগে যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলটিতে ‘বৃহৎ নৌবহর’ মোতায়েন করেছে। ওয়াশিংটন পারমাণবিক ইস্যু ছাড়াও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করতে চায়। তবে তেহরান জানিয়েছে, তারা কেবল পারমাণবিক কর্মসূচির সীমাবদ্ধতা আরোপ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে আলোচনা করতে রাজি। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করা হবে না এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করা হবে না।
সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বুদাপেস্টে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি করা কঠিন, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র চেষ্টা করতে প্রস্তুত। একই দিন জেনেভায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রোসির সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে আইএইএর সঙ্গে সহযোগিতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আসন্ন আলোচনার কারিগরি বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়।
সূত্র জানায়, মঙ্গলবার বিকেলে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার রাশিয়া ও ইউক্রেনের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকেও অংশ নেবেন। ইউক্রেনে চার বছর ধরে চলা রাশিয়ার আগ্রাসন বন্ধে ইউক্রেন ও রাশিয়াকে একটি সমঝোতায় আনতে যুক্তরাষ্ট্র চেষ্টা চালাচ্ছে।
এই পরোক্ষ বৈঠক দুটি দেশের পারমাণবিক বিরোধে সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমাধানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


