জাতীয় ডেস্ক
দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতি পরিবর্তন করে প্রথমবারের মতো বঙ্গভবনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবনের উন্মুক্ত চত্বরে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। একই দিন বিকেল ৪টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের পর থেকেই সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শুরু হয়। রাষ্ট্রীয় এই আয়োজন পরিচালনা করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। নিরাপত্তা, প্রটোকল ও আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলে জানা গেছে।
সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ বাধ্যতামূলক। সেই সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার আলোকে মঙ্গলবারের এ শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। শপথ গ্রহণের মাধ্যমে সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং পরবর্তী সময়ে সংসদের কার্যক্রম শুরু হবে।
প্রথা অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের শপথের পর সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের সংসদীয় বোর্ডের সভা করবে। ওই সভায় সংসদীয় নেতা নির্বাচন করা হবে। নির্বাচিত সংসদীয় নেতা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সরকার গঠনের দাবি জানাবেন। রাষ্ট্রপতি তাঁকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিলে তিনি মন্ত্রিসভার সদস্যদের তালিকা জমা দেবেন। এরপর পর্যায়ক্রমে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের শপথ গ্রহণ সম্পন্ন হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ২৯৯টি আসনের ফলাফল গ্রহণ করে নির্বাচন কমিশন। পরবর্তীতে ২৯৭টি আসনের গেজেট প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, বিএনপি ২০৯টি আসনে জয় লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। ফলে সরকার গঠনে দলটির সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
দক্ষিণ প্লাজায় শপথ আয়োজনকে কেন্দ্র করে সংসদ ভবন এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আমন্ত্রিত অতিথি, কূটনৈতিক প্রতিনিধি, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। উন্মুক্ত চত্বরে শপথ আয়োজনের ফলে অধিকসংখ্যক অতিথি ও গণমাধ্যমকর্মীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন।
স্বাধীনতার পর থেকে সাধারণত বঙ্গভবনে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল। এবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠান আয়োজনের সিদ্ধান্তকে প্রশাসনিক ও প্রটোকলগত সমন্বয়ের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে একযোগে সংসদ সদস্যদের শপথ ও মন্ত্রিসভার শপথ আয়োজনের ফলে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন করা সহজ হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
শপথ গ্রহণের মাধ্যমে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। এর পরবর্তী ধাপে নতুন মন্ত্রিসভা দায়িত্বভার গ্রহণ করে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করবে এবং সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বানের মাধ্যমে আইন প্রণয়ন কার্যক্রম শুরু হবে।


