নতুন সরকারের প্রথম দিনে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নতুন সরকারের প্রথম দিনে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক

নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম কর্মদিবসে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দিনসূচি শুরু করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে তিনি ও তার মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। পাশাপাশি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতেও শ্রদ্ধা নিবেদন করার কর্মসূচি রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সকাল ১০টায় রাজধানীর গুলশানের বাসভবন থেকে সাভারের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। জাতীয় স্মৃতিসৌধে পৌঁছে তিনি মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন এবং কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করবেন। রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল অনুযায়ী সেখানে সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে নবনির্বাচিত সরকার বা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানানো একটি প্রচলিত রীতি। এর মাধ্যমে স্বাধীনতার চেতনার প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন, যানবাহন চলাচলে নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বিক নিরাপত্তা তদারকির জন্য সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

জাতীয় স্মৃতিসৌধে কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী ঢাকায় ফিরে দুপুর ১টার দিকে সচিবালয়ে পৌঁছাবেন। সেখানে তিনি মধ্যাহ্নভোজ ও নামাজ আদায় করবেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর সচিবালয়ে এটি হবে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক উপস্থিতি। প্রশাসনিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা রক্ষায় এদিন বিকেল ৩টায় নতুন মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা, চলমান প্রশাসনিক বিষয় এবং নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে।

দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকেল ৪টায় সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবরা উপস্থিত থাকবেন। সরকারের নীতি বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের গতি ত্বরান্বিত করার বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, নির্ধারিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রোটোকল, নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক সমন্বয় নিশ্চিত করতে আগাম প্রস্তুতিমূলক বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নতুন সরকারের প্রথম দিনের এ কর্মসূচিকে প্রতীকী ও তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা পালনের পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার মাধ্যমে সরকার তাদের অগ্রাধিকার ও কার্যক্রমের ধারাবাহিকতার বার্তা দিতে চায় বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ