ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৬ দিনে রেমিট্যান্স ১৮০ কোটি ডলার, আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি

ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৬ দিনে রেমিট্যান্স ১৮০ কোটি ডলার, আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক

চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ১৬ দিনে দেশে ১৮০ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১১ কোটি ২৯ লাখ ডলার প্রবাসী আয় দেশে প্রবাহিত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, চলতি বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্সের প্রবাহ আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে। গত বছরের একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৪৯ কোটি মার্কিন ডলার। সেই হিসাবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রায় ৩১ কোটি ডলারের বেশি বৃদ্ধি হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ১২৪ কোটি মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা ২১ দশমিক ৭০ শতাংশ বেশি। অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রবাসী আয় বৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে এবং আমদানি ব্যয় মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এর আগে জানুয়ারি মাসে দেশে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স আসে। এটি দেশের ইতিহাসে একক কোনো মাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ এবং চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ডিসেম্বর মাসে রেমিট্যান্স আসে ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ মার্কিন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এবং চলতি অর্থবছরের মধ্যে একক মাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়। নভেম্বরে দেশে আসে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার।

রেমিট্যান্স প্রবাহে ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সূচকে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানি ব্যয় পরিশোধ, বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধ এবং ডলারের বাজারে স্থিতিশীলতা রক্ষায় সহায়তা মিলছে। পাশাপাশি রেমিট্যান্স গ্রামীণ অর্থনীতিতে ভোগব্যয় ও বিনিয়োগ বাড়াতে ভূমিকা রাখে, যা অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রবৃদ্ধিকে সহায়তা করে।

বাংলাদেশের প্রবাসী কর্মীরা মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশে কর্মরত রয়েছেন। প্রবাসী আয়ের বড় অংশ ব্যাংকিং চ্যানেল এবং বৈধ আর্থিক মাধ্যমে দেশে আসছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে। সরকার প্রণোদনা ও প্রণালী সহজীকরণের মাধ্যমে প্রবাসীদের বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত করে আসছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪-২৫ অর্থবছরজুড়ে দেশে মোট ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড। চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসের প্রবণতা অব্যাহত থাকলে বছর শেষে প্রবাসী আয়ের নতুন উচ্চতা স্পর্শের সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ