আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘শান্তি বোর্ড’-এ ভ্যাটিকান অংশ নেবে না। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী কার্ডিনাল পিয়েত্রো প্যারোলিন মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এই অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেন, বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে জাতিসংঘকে, এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সংকট ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব অবশ্যই জাতিসংঘের হাতে থাকা উচিত।
‘শান্তি বোর্ড’ের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান সংঘাতের পর গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং পুনর্গঠন তদারকির ব্যবস্থা করা। তবে পরবর্তীতে বোর্ডের উদ্দেশ্য সম্প্রসারিত করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাত সমাধানের দিকে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। এর ফলে সমালোচকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এটি জাতিসংঘের বিকল্প বা প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো কাঠামো হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
গত জানুয়ারি মাসে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘শান্তি বোর্ড’ চালুর ঘোষণা দেন। এরপর থেকে অন্তত ১৯টি দেশ এই বোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা সনদে স্বাক্ষর করেছে। বোর্ডের স্থায়ী সদস্যপদ পেতে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোকে এক বিলিয়ন ডলার করে অর্থ প্রদান করতে বলা হয়েছে।
বোর্ডের কার্যক্রম নিয়ে বিশেষভাবে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আমন্ত্রণ জানানোর কারণে। রাশিয়া ২০২২ সালে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে পশ্চিমা দেশগুলো এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এর সমালোচনা করে আসছে।
কার্ডিনাল প্যারোলিন বলেন, “জাতিসংঘ দীর্ঘদিন ধরে বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় নেতৃত্ব দিয়েছে। যে কোনো নতুন আন্তর্জাতিক কাঠামোতে অংশ নেওয়ার আগে জাতিসংঘের ভূমিকাকে অবমূল্যায়ন করা উচিত নয়।” তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো উদ্যোগ যদি কার্যকরভাবে কাজ করতে চায়, তবে সেটি জাতিসংঘের সঙ্গে সমন্বয় রেখে পরিচালিত হতে হবে।
‘শান্তি বোর্ড’ প্রসঙ্গে ভ্যাটিকানের স্পষ্ট অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি বোঝাতে চাচ্ছে যে, কোনো দেশ বা বহিরাগত গোষ্ঠী একপক্ষীয় উদ্যোগে বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামোতে প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না। এছাড়া, বোর্ডের অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় অনেক দেশের দূর্বল অংশগ্রহণের সম্ভাবনাও সীমিত হতে পারে।
বর্তমানে বোর্ডটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাতের সমাধান এবং পুনর্গঠন কার্যক্রম তদারকির পরিকল্পনা করছে। তবে ভ্যাটিকানের মত দেশে অংশগ্রহণ না করার কারণে বোর্ডের বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা এবং কার্যকরতা নিয়ে বিতর্ক চলতে পারে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, জাতিসংঘকে বাদ দিয়ে কোনো নতুন কাঠামো গঠন করা হলে বৈশ্বিক নীতি ও নিয়মের সঙ্গে সংঘর্ষের ঝুঁকি থাকে।
এপর্যন্ত বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত দেশগুলো মূলত অর্থনৈতিক এবং কূটনৈতিক দিক থেকে সক্রিয়, কিন্তু বিশ্ব রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর অনুপস্থিতি বোর্ডের গ্রহণযোগ্যতা সীমিত করতে পারে। এ কারণে ভ্যাটিকানের অবস্থানকে একটি নীতিগত এবং প্রভাবশালী সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের গুরুত্বকে পুনরায় প্রমাণ করছে।


