শিক্ষা ডেস্ক
পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের সরকারি ও বেসরকারি কলেজগুলোতে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ছুটি শুরু হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, টানা ৩৯ দিনের বিরতির পর আগামী ২৯ মার্চ থেকে পুনরায় শ্রেণিকক্ষের কার্যক্রম শুরু হবে।
মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ছুটির তালিকা অনুযায়ী, রমজান, ঈদুল ফিতর এবং গ্রীষ্মকালীন ছুটি সমন্বয়ের মাধ্যমে কলেজগুলোতে ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত মোট ২৬ দিন ধারাবাহিকভাবে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে এক দিনের সাধারণ ছুটি রয়েছে। পরবর্তী দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি (শুক্র ও শনিবার) হওয়ায় বিরতির সময় আরও দীর্ঘ হচ্ছে। ফলে ২৯ মার্চ, রোববার থেকে শিক্ষার্থীরা পুনরায় ক্লাসে ফিরবে।
অন্যদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ভোকেশনাল স্কুল-কলেজ, ডিপ্লোমা ইন্সটিটিউট, বিএমটি কলেজ ও অন্যান্য ভোকেশনাল কলেজে ছুটি শুরু হবে ৮ মার্চ থেকে। এসব প্রতিষ্ঠানে ছুটি শেষে ২৯ মার্চ থেকে পাঠদান কার্যক্রম পুনরায় চালু হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ধর্মীয় উৎসব, জাতীয় দিবস এবং ঋতুভিত্তিক অবকাশ সমন্বয় করে শিক্ষাবর্ষের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লক্ষ্যে এ সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে একদিকে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ ছুটির সুযোগ পাবে, অন্যদিকে নির্ধারিত পাঠসূচি সম্পন্ন করতেও সুবিধা হবে।
এ বছরের ছুটির তালিকায় ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী ২৪ মে থেকে ৫ জুন পর্যন্ত মোট ১০ দিনের ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া দুর্গাপূজা, বিজয়া দশমী, প্রবারণা পূর্ণিমা ও লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে ১৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত আরও ১০ দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।
বছরের শেষ দিকে শীতকালীন অবকাশ হিসেবে ১৭ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ১১ দিনের ছুটি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাতীয় ও ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি মৌসুমি পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে এসব ছুটি নির্ধারণ করা হয়, যাতে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় থাকে এবং শিক্ষাবর্ষ সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়।
দীর্ঘ ছুটির সময় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের তত্ত্বাবধান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে পরীক্ষামুখী শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য এই সময়টিকে পুনরালোচনা ও প্রস্তুতির সুযোগ হিসেবে ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, ২৯ মার্চ থেকে সব স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এতে চলতি শিক্ষাবর্ষের পাঠক্রম নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।


